গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হয় করোনাভাইরাস। এরপর সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও মানব জীবনের ত্রাস হয়ে আছে এ ভাইরাস। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও।
প্রায় প্রতিদিনই আগের রেকর্ড ভেঙ্গে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর তথ্য মতে রোববার গোটা বিশ্বে নতুন করে আরও ২ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ করনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। যা এযাবৎকালে বিশ্বে একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড।
এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ ছিল গত শুক্রবার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে ওইদিন বিশ্বজুড়ে একদিনে সর্বোচ্চ ২ লাখ ২৮ হাজার ১০২ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন।
রেকর্ড সংক্রমণের দিন রোববার সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত মানুষ শনাক্ত হয়েছে শীর্ষ আক্রান্ত দেশগুলোতে। এই তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। চলতি মাসের শুরু থেকেই সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। তবে দৈনিক মৃত্যুর গড় হার এখনো পাঁচ হাজারের নিচে রয়েছে।
জুলাইয়ের প্রথম দুই সপ্তাহে দৈনিক নতুন রোগী শনাক্তের গড় হার ২ লাখের বেশি। অথচ গত জুন মাসেও করোনার গড় সংক্রমণের হার ছিল দেড় লাখের নিচে। বিশ্বজুড়ে সংক্রমণের তুলনায় মৃত্যু অতটা আশঙ্কাজনক হারে না বাড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা যে একটু একটু করে বাড়তির দিকে যাচ্ছে তা বেশ স্পষ্ট।
মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকারগুলোকে আরও আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ডব্লিউএইচও বলছে, মহামারি এই ভাইরাসটির সংক্রমণ বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে ছড়ালেও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে এর লাগাম টেনে ধরা এখনও সম্ভব।
সারা বিশ্বে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ত্রিশ লাখের বেশি মানুষ। মারা গেছেন পাঁচ লাখ ৬১ হাজারের অধিক।

