করোনা মহামারি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকট, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, আপনজনদের মধ্যে যোগাযোগ কমে যাওয়া, বিনোদনের সুযোগ না থাকা এবং বাধ্য হয়ে ঘরে আটকে পড়ায় দেশজুড়ে বেড়েছে পারিবারিক সহিংসতা। বিশেষ করে এই সহিংসতার শিকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা।
নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন একাধিক সংগঠনের জরিপ বিশ্লেষণ করেও দেখা গেছে, করোনাকালে পারিবারিক সংহিসতা বেড়েছে। করোনাকালে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনায় অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে অর্থনৈতিক টানাপড়েনে পড়েছে, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছে। অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে হতাশা ও অস্থিরতা বোধ করায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহিংস আচরণ বেড়েছে, যা করোনা পরিস্থিতির আগের চেয়ে বেশি।
করোনার কারণে দরিদ্র পরিবারের নারী ও শিশুর ওপর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক আচরণ করা হচ্ছে। করোনায় অর্থনৈতিক সংকট, অনিশ্চয়তা ও মানসিক অশান্তিতে বাল্যবিয়ে, বিয়েবিচ্ছেদ বেড়েছে।
গত জুন মাসে দেশের ৫৩টি জেলার মোট ৫৭ হাজার ৭০৪ জন নারী ও শিশুর ওপর জরিপ চালিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। তাতে দেখা যায়, করোনার কারণে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, অভাব ইত্যাদির কারণে অভিভাবকরা আইন লঙ্ঘন করে কন্যাশিশুদের গোপনে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। আর গত মার্চ থেকে প্রতি মাসে পারিবারিক সহিংসতা দ্বিগুণ হারে বাড়ছে।
জুন মাসে বয়স্ক ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ৪৬২টি কন্যাশিশুকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। করোনায় আর্থিক কারণে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছে শতকরা ৬১ ভাগ শিশু।
জুনে মোট দুই হাজার ৮৯৬টি শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মে মাসে নির্যাতনের এ সংখ্যা ছিল দুই হাজার ১৭১। জুনে ৪৮ শতাংশ শিশু নতুনভাবে নির্যাতিত হয়েছে।
করোনা আঘাত হানায় দেশের ৫৩টি জেলায় মোট ১২ হাজার ৭৪০ জন নারী ও শিশু পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। মে মাসে নির্যাতনের এই সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৪৯৪।

