প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের কিছুটা সাশ্রয়ী হতে হচ্ছে, তার মানে এই নয় দেশের মানুষ বিদ্যুৎ পাবে না। সকলে বিদ্যুৎ পাচ্ছে এবং পাবে। তবে এক্ষেত্রে সবাইকে একটু মিতব্যয়ী হতে হবে।
আজ বুধবার সকালে রুপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আরএনপিপি)-এর ইউনিট-২ এর রিঅ্যাক্টও প্রেসার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লী পাত্র স্থাপন অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঈশ্বরদী, পাবনার রুপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আয়োজিত মুল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
সরকার প্রধান বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল সবাইকে বিদ্যুৎ দেওয়ার এবং আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পেরেছি। প্রতিটি ঘরে আলো জে¦লে সমগ্র বাংলাদেশকে আমরা আলোকিত করেছি। এর ফলে আজকে উন্নত দেশগুলোও হিমসিম খাচ্ছে এবং তারাও সাশ্রয়ের দিকে নজর দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকেরই উপলব্ধি করা উচিত যে বিশ্ব একটি গ্লোবাল ভিলেজ এবং একে অন্যের ওপর উপর নির্ভরশীল। কাজেই বিশ্বব্যাপী চলমান মন্দার অভিঘাত বাংলাদেশেও যে পড়বে সেটাই স্বাভাবিক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুনঃ দারিদ্র্য বিমোচনে জরুরি বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব
শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কারনে অনেক উন্নত দেশে ও খাদ্যের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও এই ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশে এখনো সৃষ্টি হয়নি। আমরা জনগণকে খাদ্য নিরাপত্তা দিচ্ছি। আমরা ন্যায্য মূল্যে খাবার কেনার জন্য এক কোটি মানুষকে বিশেষ কার্ড দিয়েছি এবং যারা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে অক্ষম তাদের বিনামূল্যে খাবার দিচ্ছি।
সরকার প্রধান বলেন, অনেকেই সমালোচনা করতে পারে, কিন্তু আমাদের এসব সমালোচনায় কর্ণপাত না করলেও চলবে, বরং আমরা দেশ ও জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্বটাই পালন করব। অনেকেই অনেক কথা বলেছেন, কিন্তু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তাকেই তাঁর সরকার প্রাধান্য দিয়েছিল। তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার ছিল দেশবাসীর জীবন ও জীবিকা রক্ষার জন্য বাংলাদেশে চেরনোবিলের মতো কোনো পারমাণবিক দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আবারও আশ্বস্ত করেন যে, তাঁর সরকার পরিবেশ রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না। সরকার দেশবাসীর আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে কারণ, জাতির পিতা তাদের একটি সুন্দর জীবন দিতে তার সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
দেশে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবদান রাখবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বাংলাদেশের জন্য বিরাট অর্জনের দিন। এটা আমাদের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বাংলাদেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত সম্মান বয়ে আনবে।

