মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ৫০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, অন্যথায় মস্কোর ওপর ১০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন
সোমবার হোয়াইট হাউসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকে এই ঘোষণা দেন তিনি। তবে, বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হুমকি পুতিন প্রশাসনকে হতাশার পরিবর্তে স্বস্তিই দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “আমি ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর হতাশ। তিনি ফোনে শান্তির প্রতিশ্রুতি দিলেও ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রেখেছেন।” তিনি জানান, পুতিনের সঙ্গে চারবার শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা বারবার ভেস্তে গেছে। “আমি তাকে আর বিশ্বাস করি না, তবে এখনো পুরোপুরি আশা ছাড়িনি,” বলেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, “আমি খুব কম লোককেই বিশ্বাস করি, তবে পুতিনের সঙ্গে এখনো কিছু কাজ বাকি।”
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প তাকে পুতিন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিবেচনায় সহায়তা করেছেন। তিনি বলেন, “আমি মেলানিয়াকে বলেছিলাম, পুতিনের সঙ্গে আমার ভালো আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তিনি বললেন, ঠিক তখনই ইউক্রেনের আরেকটি শহরে হামলা হয়েছে।”
ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ৫০ দিনের মধ্যে রাশিয়া যদি ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় না আসে, তবে রাশিয়ার ওপর ১০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হবে। এই শুল্ক শুধু রাশিয়ার জন্য নয়, চীন, ভারত, ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর জন্যও প্রযোজ্য হবে, যারা রুশ তেল ও গ্যাস ক্রয় করছে। এই শুল্ক রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করবে, কারণ তেল ও গ্যাস রাশিয়ার আয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং রপ্তানির ৬০ শতাংশের বেশি।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, “ট্রাম্পের এই শুল্ক পরিকল্পনা অত্যন্ত কৌশলগত। এটি রাশিয়ার পাশাপাশি তার বাণিজ্যিক সহযোগী দেশগুলোকে চাপে ফেলবে, যারা পুতিনকে শান্তি আলোচনায় বাধ্য করতে পারে।”
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর মাধ্যমে ইউক্রেনকে উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করবে, যার ব্যয় ইউরোপীয় দেশগুলো বহন করবে। এর মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ইউক্রেনের শহরগুলোকে রুশ হামলা থেকে রক্ষা করবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই ইউক্রেন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই অস্ত্র দ্রুত কিয়েভে পৌঁছাবে।”
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই হুমকি রাশিয়ার জন্য স্বস্তির কারণ হয়েছে, কারণ তারা আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা করছিল। মস্কোর শেয়ারবাজার সূচক ২.৭ শতাংশ বেড়েছে। রুশ সিনেটর কনস্টানটিন কোসাচেভ বলেন, “৫০ দিনের এই সময়সীমা রাশিয়াকে কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরির সুযোগ দেবে।”
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো বলেন, “এই ৫০ দিনে রাশিয়া আরও হামলা চালাতে পারে, যা আমাদের জনগণের জন্য বিপদ ডেকে আনবে।” তবে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অস্ত্র সহায়তার জন্য ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, “এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ৩৫০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। এটি আমার যুদ্ধ নয়, এটি বাইডেনের যুদ্ধ। আমি এই সংঘাত থেকে বিশ্বকে মুক্ত করতে চাই।” তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের ওপর জোর দেন।

