এসডিজি-১৪ অর্জনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান পরিবেশ উপদেষ্টার



টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-১৪ (এসডিজি) অর্জন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সম্মিলিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি ঢাকায় নিজ বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই আহ্বান জানান।

‘ওশেন ডিকেড ফিফথ ফাউন্ডেশনস ডায়ালগ: হাই-লেভেল রাউন্ডটেবল উইথ অ্যাম্বাসেডরস, এক্সপার্টস অ্যান্ড প্র্যাকটিশনার্স’ শীর্ষক সভায় “ড্রাইভিং ওশেন লিডারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন: অ্যাডভান্সিং গভার্নেন্স, ব্লু ইকোনমি, অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স টু অ্যাচিভ থার্টি বাই থার্টি” শীর্ষক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তিনি বক্তব্য রাখেন। এই অধিবেশনে সমুদ্র সংরক্ষণ, নীল অর্থনীতি এবং সামুদ্রিক বিজ্ঞানের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, বৈশ্বিক প্লাস্টিক দূষণে বাংলাদেশ নবম স্থানে রয়েছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে আসে। তিনি প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় চলমান বৈশ্বিক চুক্তিতে ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বিশেষ বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলো প্লাস্টিক দূষণের অসম প্রভাবের শিকার, এবং এই সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

জাহাজভাঙা শিল্পকে বাংলাদেশের উপকূলীয় পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, এই শিল্প থেকে উৎপন্ন তেল ও রাসায়নিক দূষণ সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর। তিনি হংকং কনভেনশনকে এই সমস্যা মোকাবিলায় “অপর্যাপ্ত” বলে সমালোচনা করেন এবং আরও কঠোর আন্তর্জাতিক নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

উপদেষ্টা জানান, বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের অর্থনীতি, আঞ্চলিক সংযোগ এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকার ইতোমধ্যে ‘অ্যাসেসমেন্ট অব কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন বায়োডাইভার্সিটি রিসোর্সেস অ্যান্ড ইকোসিস্টেম’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যার মাধ্যমে জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি, সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং পর্যবেক্ষণ প্রটোকল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের সম্পদ তুলে ধরে রিজওয়ানা হাসান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমাদের সামুদ্রিক মাছের সম্পদ এখনও যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি। আন্তর্জাতিক অংশীদাররা চাইলে বাংলাদেশে টেকসই সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন।