ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সামনে শিক্ষার্থীরা ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন, এবং অভিযোগের কারণে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা ভোটকেন্দ্রে গেলে দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছি। আমাকে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, আচরণবিধি থাকা সত্ত্বেও বাধা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, কিছু কেন্দ্রে তাদের “এতিমের মতো দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।”
অন্যদিকে, ছাত্রশিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী সাদেক কায়েম সিনেট ভবনের সামনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ডাকসু নির্বাচনে হার-জিত গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা সবাই জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধা। শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট মেনে নিতে হবে। কেউ জোর করে কিছু চাপিয়ে দিলে তা হিতে বিপরীত হবে।” তিনি ষড়যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের বাইরে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। নীলক্ষেত ও শাহবাগ মোড়ে তাদের অবস্থানের কারণে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানান, “অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চলছে, এবং পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

