প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাজ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্যও অনুকরণীয় হবে। তিনি বলেন, “আমরা যেভাবে সমস্যার সমাধান করছি, তা সারা বিশ্ব লক্ষ্য করবে। এটি কেবল আমাদের অভিজ্ঞতা নয়, বিশ্বের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ নেই। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে যে পথে আমরা এগোচ্ছি, সেখান থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। এই ঐক্যের পথেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন হবে একটি মহোৎসব, যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে পারি। এটি শুধু নির্বাচন নয়, জাতির নবজন্মের মুহূর্ত। ছাত্র-জনতার ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই সুযোগকে আমরা সফল করব।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “বিভাজন বা দ্বিমতের কোনো জায়গা নেই। আমরা অনেক আলোচনা করতে পারি, কিন্তু ঐক্য ছাড়া এই নির্বাচন সফল হবে না।” তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান আমাদের হাতে আলাদিনের প্রদীপ তুলে দিয়েছে। আমরা চাইলে ছোটখাটো বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারি, অথবা পুরো জাতিকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারি। এই সুযোগ আর ফিরে আসবে না।”
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “এমন বড় কাজের সুযোগ বারবার আসে না। আমাদের ধৈর্য ধরে ঐক্যের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নির্বাচন পর্যন্ত আমাদের লক্ষ্য হলো দ্বন্দ্বমুক্ত একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করা।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি মহাসড়ক তৈরি করেছি, এখন শুধু সঠিক সাইনবোর্ড বসানো বাকি। পথ পরিষ্কার, গন্তব্য সুনির্দিষ্ট। এই নির্বাচন হবে শান্তি ও নতুন যাত্রার সূচনা। আমাদের সংস্কারের লক্ষ্য হলো এমন পথ বন্ধ করা, যাতে কোনো স্বৈরাচার আর ফিরে আসতে না পারে।”
কমিশনের কাজকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, “কমিশনের সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ইতিহাসের একটি স্মরণীয় অধ্যায় রচনা করেছেন। এখন এটিকে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে হবে।” তিনি রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “এবার ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই। ঐক্যের পথে এগিয়ে আমরা এই নির্বাচনকে সফল করব এবং জাতির মহোৎসব শুরু করব।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

