জেনে নিন কোন কোন যান চলাচলে ইসি’র নিষেধাজ্ঞা



নির্বাচনী মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফের কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সম্প্রতি জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে কমিশন জানিয়েছে, ভোটকে কেন্দ্র করে ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা সারাদেশে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন চলাচলের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

তবে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে জরুরি সেবা ও বিশেষ ক্ষেত্রগুলোকে এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের দিনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করতে সাধারণত এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। এই সময়ে মূলত ব্যক্তিগত এবং বাণিজ্যিক ভারী ও হালকা যান চলাচলে লাগাম টানা হয়েছে।
বিশেষ করে ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস এবং ট্রাকের মতো যানবাহনগুলো এই ২৪ ঘণ্টা সড়কে নামতে পারবে না।

রাজধানীর ব্যস্ত মোড় থেকে শুরু করে মফস্বলের মেঠোপথ—সর্বত্রই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকবে যাতে এই নির্দেশনা লঙ্ঘিত না হয়। সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষ স্টিকার বা অনুমতিপত্র প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।

ছাড় পাচ্ছে যারা: মানবিক ও প্রশাসনিক বিবেচনা

নিষেধাজ্ঞা মানেই কিন্তু পুরোপুরি স্থবিরতা নয়। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং বিশেষ প্রয়োজনে চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কমিশন একগুচ্ছ ছাড়ের তালিকাও প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রশাসনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহনগুলো কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে। এছাড়া দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক যারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি এবং জীবনদায়ী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনে নিয়োজিত যানগুলো নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এর ফলে রোগীদের হাসপাতালে যাওয়া বা জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসকদের চলাচলে কোনো বিপত্তি ঘটবে না।

এক নজরে বিধিনিষেধ ও অনুমতির তালিকা:

নাগরিকদের সুবিধার্থে ইসির নির্দেশনার মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

নিষেধাজ্ঞার সময়: ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত।

নিষিদ্ধ যানবাহন: ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও ট্রাক।
আওতামুক্ত সেবা: অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্র, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ সংস্কারকারী দল।
বিশেষ অনুমতি: নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের গাড়ি (অবশ্যই স্টিকার ও পরিচয়পত্র থাকতে হবে)।

প্রশাসনিক জরুরি: সশস্ত্র বাহিনী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে পরিচালিত যানবাহন।

সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের প্রস্তুতি

নির্বাচন মানেই তথ্যের প্রবাহ। তাই সংবাদপত্রের গাড়ি এবং সাংবাদিকদের চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ শিথিলতা বজায় রাখা হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের জন্য ইসির নির্ধারিত কার্ড এবং যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট স্টিকার প্রদর্শনী বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইভাবে পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্তাবলি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নতুন কিছু নয়, তবে এর সফল প্রয়োগই বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় বৈধ জরুরি সেবাও হয়রানির শিকার হয়। প্রশাসনের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা থাকবে, নিয়মের কড়াকড়ি যেন কেবল অপরাধীদের জন্য হয়, সাধারণ কোনো রোগী বা জরুরি সেবাপ্রার্থীর ভোগান্তির কারণ না হয়। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে এই ২৪ ঘণ্টার ত্যাগের বিনিময়ে একটি সুন্দর ভোট উৎসব উপহার পাওয়াই এখন দেশবাসীর একমাত্র কাম্য।