দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস ওঠা সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এলো সরকার। আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশজুড়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সচিবালয়ে নীতি-নির্ধারণী বৈঠক
রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে চাল, ডাল, তেল ও চিনির মতো জরুরি খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবে।
মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “আমরা চাই না উৎসবের আনন্দ বাজারে গিয়ে মলিন হয়ে যাক। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই প্রকল্পের তদারকি করছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এই কার্ড বিতরণ শুরু করব, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”
স্মার্ট প্রযুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত
বিগত দিনের রেশন কার্ড বা টিসিবি কার্ডের অব্যবস্থাপনা দূর করতে এবার ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তৈরি করা ডাটাবেজে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করা হবে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক কার্ড নিতে না পারেন। এছাড়া কিউআর কোড (QR Code) যুক্ত স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে খোলা বাজারে পণ্যের ওপর চাপ কমবে এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আসন্ন রমজানে সাধারণ মানুষের ঘরে সুষম খাদ্য পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
এক নজরে ফ্যামিলি কার্ডের মূল তথ্যসমূহ:
চালুর সময়: ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু।
লক্ষ্যমাত্রা: নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত কয়েক কোটি পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া।
সরবরাহকৃত পণ্য: ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ও উচ্চমানের চাল।
প্রযুক্তি: স্মার্ট ডাটাবেজ ও এনআইডি ভিত্তিক যাচাইকরণ।
তদারকি: সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট চার মন্ত্রণালয়ের যৌথ তদারকি।
জলবায়ু ও বনায়নের সমন্বয়
পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে আব্দুল আউয়াল মিন্টু এই প্রকল্পের একটি ভিন্ন দিকও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা বিতরণের সময় পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে প্লাস্টিক ব্যাগের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের কার্ডধারীদের বিনামূল্যে ফলদ ও বনজ গাছের চারা দেওয়ার একটি বিশেষ প্রস্তাবও এই বৈঠকে আলোচিত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
সরকারের এই মহতী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। অতীতে ডিলারদের কারসাজি বা কার্ড বিতরণে স্বজনপ্রীতির যেসব অভিযোগ উঠেছিল, তা মোকাবিলা করাই হবে নতুন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সভাপতিত্বে বৈঠক হওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করবে না।

