বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে টেলিফোন করে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।
আজ শুক্রবার বেলা তিনটায় দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলাপকালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এবং জনশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।
সৌজন্য বিনিময় ও দ্বিপাক্ষিক অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, ফোনালাপের শুরুতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে তারেক রহমান ও তার দল বিএনপিকে অভিনন্দন জানান। তিনি এই বিজয়কে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী এই আলাপচারিতায় দুই দেশের সরকারপ্রধান পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম দুই রাষ্ট্রের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত বন্ধু মালয়েশিয়া। নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বেগবান হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু
ফোনালাপে শুধুমাত্র সৌজন্য বিনিময়ই নয়, বরং গুরুত্ব পেয়েছে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা। প্রেস সচিব সালেহ শিবলী সাংবাদিকদের জানান, আলোচনায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি এবং সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে।
বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন বার্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দশকের ব্যবধানে ক্ষমতার পালাবদলের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আসা এই সমর্থন নতুন সরকারের জন্য ইতিবাচক। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রভাবশালী নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের সরাসরি ফোন কল ঢাকার নতুন প্রশাসনের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক স্বীকৃতি। এর আগে গত মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন দেশ থেকে অভিনন্দন বার্তা আসতে শুরু করেছে।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত নিবিড়। বিশেষ করে রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও উচ্চশিক্ষা খাতের বড় একটি অংশ মালয়েশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। আজকের এই ফোনালাপ সেই আস্থার জায়গাকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের এই নতুন পথচলায় মালয়েশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সমর্থন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দুই প্রধানমন্ত্রীর এই আলাপচারিতা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি ঢাকা-কুয়ালালামপুর সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
আলাপের প্রধান দিকগুলো হলো:
শ্রমবাজার উন্নয়ন: মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা আনা এবং আরও বেশিসংখ্যক দক্ষ জনবল নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব: দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই নেতা।
মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ: আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: আসিয়ান ও ওআইসিভুক্ত দেশ হিসেবে আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তারা।

