কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন নারীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর ২টায় শহরের উপকণ্ঠের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশাটি থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। নিমিষেই উৎসবের দিনটি রূপ নেয় বিষাদে।
রক্তাক্ত দুপুরের বিভীষিকা
একুশে ফেব্রুয়ারির ছুটির দুপুরে যখন শহরজুড়ে শান্ত পরিবেশ, ঠিক তখনই কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কের বারখাদা এলাকায় বাতাসের শব্দ ছাপিয়ে আসে এক বিকট আওয়াজ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একটি দ্রুতগামী গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক কুষ্টিয়া শহর অভিমুখে আসার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রী বোঝাই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সরাসরি ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, অটোরিকশাটি ট্রাকের নিচে ঢুকে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ পাঁচ আরোহীর মৃত্যু হয়। রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে গ্যাস সিলিন্ডার আর মানুষের রক্ত। মুহূর্তেই স্থানীয় জনতা উদ্ধারকাজে হাত দিলেও ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পরিচয় মিলেছে চারজনের
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা হলেন— আমেনা, কমেলা, জাকারিয়া ও আশরাফুল। নিহতদের অধিকাংশেরই বাড়ি স্থানীয় এলাকায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অন্য একজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে এখন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। শোকের মাতম চলছে নিহতদের নিজ নিজ গ্রামে।
বেপরোয়া গতি ও সরু রাস্তা: নেপথ্যের কারণ
কুষ্টিয়ার এই বাইপাস সড়কটি ইদানীং যমদূতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় ট্রাক ও লরিগুলো এই সরু রাস্তায় পাল্লা দিয়ে চলে। বিশেষ করে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকগুলো প্রায়ই ট্রাফিক আইন অমান্য করে দ্রুতগতিতে চলে। আজকের দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকটির ব্রেক ফেল হয়েছিল নাকি চালকের অসতর্কতা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক আলামত বলছে, ওভারটেক করতে গিয়েই এই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এক নজরে দুর্ঘটনার মূল তথ্যসমূহ:
সময়: শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি), দুপুর ২টা।
স্থান: কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়ক এলাকা।
যানবাহন: এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা।
হতাহতের সংখ্যা: ৫ জন নিহত (৩ নারী ও ২ পুরুষ)।
শনাক্তকৃত নিহতর নাম: আমেনা, কমেলা, জাকারিয়া ও আশরাফুল।
প্রশাসনের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, “খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে। চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
তবে কেবল গ্রেপ্তারে কি সমাধান আসবে? কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কের ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান নেই বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহনের অবাধ চলাচল নিয়ে বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

