‘চাপ’ উপেক্ষা করে ইরানের অনড় অবস্থান; বিস্মিত ট্রাম্প!


‘চাপ’ উপেক্ষা করে ইরানের অনড় অবস্থান; বিস্মিত ট্রাম্প!

ভীষণ সামরিক চাপ আর নিষেধাজ্ঞার পাহাড় ডিঙিয়েও নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একচুল নড়তে রাজি নয় ইরান। তেহরানের এই অনড় অবস্থানে রীতিমতো বিস্মিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ চাপ সত্ত্বেও ইরান কেন এখনো নতি স্বীকার করছে না, তা নিয়ে প্রেসিডেন্টের মনে দানা বেঁধেছে গভীর কৌতূহল।

কৌতূহলী ট্রাম্প ও উইটকফের বিশ্লেষণ

শনিবার ফক্স নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মাই ভিউ উইথ লারা ট্রাম্প’-এ অংশ নিয়ে স্টিভ উইটকফ বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সরাসরি বলেন, ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা ছিল ইরানের ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

উইটকফ বলেন, “আমি ‘হতাশ’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানেন তার হাতে অনেক বিকল্প আছে। তবে তিনি এটি দেখে সত্যিই কৌতূহলী যে, কেন ইরান এখনো আত্মসমর্পণ করেনি বা নতি স্বীকারের কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।”

উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের গত মেয়াদেও ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। তবে বিশেষ দূতের কণ্ঠে এবার যেন কিছুটা প্রচ্ছন্ন বিস্ময় ঝরে পড়ল। তার মতে, এত বিশাল নৌ ও সামুদ্রিক শক্তি মোতায়েনের পরও ইরানের দিক থেকে ‘অস্ত্র চাই না’ মর্মে কোনো সংকেত না আসাটা নজিরবিহীন।

রণকৌশল ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এখন তুঙ্গে। একের পর এক রণতরি এবং অত্যাধুনিক বিমানবাহী জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে ইরানের খুব কাছাকাছি। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ছিল, এই সমরশক্তির প্রদর্শনী দেখে তেহরান নিজেই বলবে— ‘আমরা পারমাণবিক অস্ত্র চাই না, আসুন আমরা সমঝোতা করি।’ কিন্তু ইরান তার নিজস্ব অবস্থানে অটল থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনড় অবস্থানের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:

  • আঞ্চলিক প্রভাব: ইরান নিজেদের মধ্যপ্রাচ্যের একটি প্রধান শক্তি হিসেবে মনে করে এবং চাপের মুখে নতি স্বীকার করাকে তাদের সার্বভৌমত্বের অবমাননা হিসেবে দেখে।

  • কূটনৈতিক তুরুপের তাস: পারমাণবিক কর্মসূচিকে তেহরান একটি দরকষাকষির শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

  • অভ্যন্তরীণ রাজনীতি: কট্টরপন্থীদের চাপে এবং জাতীয়তাবোধের কারণে ইরানি নেতৃত্ব সহজে মার্কিন চাপের কাছে মাথানত করতে পারছে না।


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের মূল পয়েন্টসমূহ

বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে নিচের মূল তথ্যগুলো বিবেচনা করা জরুরি:

  • সামরিক শক্তির প্রদর্শন: পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড পরিমাণ নৌ-বাহিনী ও বিমান বাহিনীর উপস্থিতি।

  • নিষেধাজ্ঞার প্রভাব: ইরানের তেলের বাজার ও ব্যাংকিং খাতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ।

  • পারমাণবিক অগ্রগতি: আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এখন বিপজ্জনক মাত্রার কাছাকাছি।

  • ট্রাম্পের বিকল্প: কূটনীতির পাশাপাশি ট্রাম্পের হাতে আরও কঠোর অর্থনৈতিক বা সীমিত সামরিক পদক্ষেপের পথ খোলা আছে।


ভবিষ্যতের গতিপথ কোন দিকে?

স্টিভ উইটকফ তার সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানকে নতি স্বীকারের অবস্থানে আনাটা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান সম্ভবত বুঝতে পারছে যে, একবার আত্মসমর্পণ করলে তাদের আঞ্চলিক প্রভাব চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌতূহল খুব দ্রুতই হয়তো নতুন কোনো কঠোর পদক্ষেপে রূপ নিতে পারে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক মাস হবে অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন যদি তাদের চাপে কাজ না হতে দেখে, তবে তারা হয়তো মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মিত্রদের নিয়ে আরও বৃহত্তর কোনো পরিকল্পনা সাজাবে। তবে ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ছাড় না দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।