সার্ক প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশের অটল সমর্থন ও সক্রিয় উদ্যোগের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সার্ককে শক্তিশালী করতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক। এই বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
নতুন সরকার গঠনের পর এটি সার্ক-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোর একটি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্ক সনদের মূল নীতিগুলো—সদস্য রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অ-হস্তক্ষেপ এবং জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ—এর প্রতি বাংলাদেশের অবিচল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ সার্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ১৯৮৫ সালে প্রথম সম্মেলনের আয়োজক। পরবর্তীতে ১৯৯৩ ও ২০০৫ সালেও ঢাকায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই ঐতিহাসিক ভূমিকা সার্ক পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশকে নেতৃত্বের আসনে বসাতে পারে।
সার্ক বর্তমানে দীর্ঘদিনের স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০১৬ সালের পর কোনো শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয় সার্ককে প্রায় অচল করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকে মহাসচিব গোলাম সারওয়ার সার্কের বর্তমান অবস্থা ও চলমান কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্ককে আরও গতিশীল করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন এবং বাংলাদেশের নেতৃত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন।
বৈঠকের পর মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেন, সার্ক নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং নতুন সরকার এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, সার্কের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং বাংলাদেশ কীভাবে নেতৃত্ব দিতে পারে—তা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—প্রতিবেশীদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

