আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরবে মানুষ। ঘরমুখো এই মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগামী ৩ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। ওইদিন থেকে ১২ মার্চ পরবর্তী যেকোনো দিনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন যাত্রীরা।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গাবতলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় পরিবহন মালিকরা একমত হয়েছেন যে, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং কালোবাজারি রোধে আগেভাগেই টিকিট সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এবারের ঈদযাত্রায় বাসের চাপ সামলাতে বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছেন মালিকরা।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩ মার্চ সকাল থেকেই একযোগে বাস কাউন্টার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট পাওয়া যাবে। ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার চিরাচরিত দৃশ্যের পাশাপাশি ঘরে বসে টিকিট কাটার সুবিধাও থাকছে। মূলত ১২ মার্চ থেকে শুরু করে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত যাত্রার সমস্ত টিকিট ওইদিন থেকেই বিক্রি শুরু হবে।
অনলাইন ও কাউন্টার: দুই মাধ্যমেই প্রস্তুতি তুঙ্গে
পরিবহন খাতের অভিজ্ঞ সাংবাদিক হিসেবে আমি দেখছি, বিগত কয়েক বছরে টিকিটিং ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে। যাত্রীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দমতো রুট, বাস কোম্পানি এবং আসন নির্বাচন করতে পারবেন। তবে যারা সরাসরি কাউন্টার থেকে টিকিট কাটতে অভ্যস্ত, তাদের জন্য গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও কল্যাণপুরের কাউন্টারগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানিয়েছেন, টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। বিশেষ করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
একনজরে ঈদযাত্রার টিকিট সংক্রান্ত তথ্যাদি:
টিকিট বিক্রি শুরু: ৩ মার্চ, সকাল থেকে।
যাত্রা শুরু: ১২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া পরবর্তী যেকোনো দিনের টিকিট মিলবে।
ক্রয় মাধ্যম: বাস কাউন্টার ও অনলাইন ওয়েবসাইট।
আসন ব্যবস্থা: আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে আসন বন্টন।
নিরাপত্তা: কালোবাজারি রোধে প্রতিটি টার্মিনালে বিশেষ তদারকি কমিটি।
যাত্রী নিরাপত্তা ও যানজট ব্যবস্থাপনা
সারা দেশে ঈদযাত্রায় প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় মহাসড়কের যানজট এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি। বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি যাতে রাস্তায় না নামে, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যানজট নিরসনে কাজ করবেন তারা। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের রুটগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে, কারণ এই পথগুলোতে ঈদ মৌসুমে গাড়ির চাপ সবচাইতে বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগাম টিকিট বিক্রির এই সিদ্ধান্ত সাধারণ যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি আনবে। তবে ৩ মার্চ সকালে টিকিটের জন্য যে উপচে পড়া ভিড় তৈরি হতে পারে, তা সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে সার্ভার ডাউনের কারণে অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে যাত্রীরা বিড়ম্বনায় পড়েন; তাই টেকনিক্যাল টিমকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

