যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর, যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে ছেলে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করল ইরান।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ও হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে বিশেষজ্ঞ পর্ষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনা তৈরি করেছে।
তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দে নয়া সমীকরণ
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যখন মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করছিল, তখন রাজধানী তেহরানসহ পুরো দেশ এক চরম ক্রান্তিকাল পার করছে। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়া ইরানি প্রশাসনে মোজতবার অভিষেক কেবল একটি পদের বদল নয়, বরং ওয়াশিংটনের প্রতি একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। উল্লেখ্য যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিপূর্বেই মোজতবাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করে তেহরানকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞ পর্ষদ সেই বার্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কট্টরপন্থার পথই বেছে নিল।
মোজতবা খামেনি গত দুই দশক ধরে পর্দার আড়াল থেকে ইরানের প্রভাবশালী ‘রেভোল্যুশনারি গার্ড’ (IRGC) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাবার মৃত্যুর পর মোজতবাই এখন কট্টরপন্থীদের একমাত্র আশার আলো, যিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে বিন্দুমাত্র আপস করবেন না।
যুদ্ধের গতিপথ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। লেবানন থেকে সিরিয়া—পুরো অঞ্চল এখন রণক্ষেত্র। মোজতবার এই নিয়োগ যুদ্ধের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরানের রাজপথে এখন স্লোগান উঠছে “বাবার রক্তের বদলা নেবে ছেলে”। এটি স্পষ্ট যে, ইরান এখন কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে সামরিক শক্তির মাধ্যমেই ট্রাম্প প্রশাসনের জবাব দিতে আগ্রহী।
হোয়াইট হাউস থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া না এলেও, পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মোজতবার এই অভিষেক ইরানের ওপর আরও কঠোর অবরোধ এবং সম্ভবত স্থল অভিযানের পথ প্রশস্ত করবে।
এক নজরে মূল ঘটনাপ্রবাহ:
উত্তরসূরি নির্বাচন: বিশেষজ্ঞ পর্ষদ সর্বসম্মতিক্রমে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী ‘সুপ্রিম লিডার’ হিসেবে মনোনীত করেছে।
ট্রাম্পের অবস্থান: ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই মোজতবাকে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করার হুমকি দিয়েছিলেন।
সামরিক প্রভাব: মোজতবা খামেনির সাথে IRGC-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় যুদ্ধের কৌশল আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে।
ভৌগোলিক প্রভাব: এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের মেরুকরণ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
মোজতবা খামেনির হাতে ক্ষমতা যাওয়ার অর্থ হলো ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো নমনীয়তা না আসা। বরং তিনি বাবার চেয়েও বেশি আগ্রাসী হতে পারেন বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা। একদিকে ট্রাম্পের আপসহীন নীতি, অন্যদিকে তেহরানের নতুন নেতার জিঘাংসা—সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

