বিশ্ব যখন ইরান সংকট আর মধ্যপ্রাচ্যের রণদামামা নিয়ে উদ্বিগ্ন, ঠিক তখনই মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত ‘হাস্যরসাত্মক’ যুদ্ধ ‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ । জাতীয় ঘুম দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ বা ‘নিদ্রালু সেনাপতি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা।
সোমবার ডেমোক্রেটিক পার্টির অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে এই ব্যঙ্গাত্মক আক্রমণ চালানো হয়।
ভাইরাল ভিডিও ও ওভাল অফিসের সেই মুহূর্ত
গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও জনসমক্ষে ট্রাম্পের ঝিমিয়ে পড়ার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তবে ডেমোক্র্যাটদের এবারের আক্রমণটি ছিল সুপরিকল্পিত। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সহযোগীদের পরিচালিত একটি অ্যাকাউন্ট থেকে গত নভেম্বরের ওভাল অফিসের একটি ছবি নতুন করে সামনে আনা হয়েছে।
সেখানে দেখা যায়, ৭৯ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলাকালীন চোখ বন্ধ করে আছেন। মুহূর্তটি দেখে মনে হচ্ছে তিনি গভীর তন্দ্রাচ্ছন্ন। এই ছবিটিকে পুঁজি করেই ডেমোক্র্যাটরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন—দেশের সংকটাপন্ন অবস্থায় প্রেসিডেন্ট কি আদৌ সজাগ আছেন?
নেটিজেনদের মিম ও রাজনৈতিক সমীকরণ
এই ‘ট্রোলিং’ বা ব্যঙ্গাত্মক প্রচারটি দ্রুত নেটিজেনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ ব্যবহারকারীরা ট্রাম্পের ঝিমিয়ে পড়ার ছবিগুলো দিয়ে শত শত ‘মিম’ ও কৌতুক তৈরি করতে শুরু করেন। মার্কিন রাজনীতিতে বয়স এবং শারীরিক সক্ষমতা বরাবরই একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। এর আগে জো বাইডেনকে ‘স্লিপি জো’ বলে ট্রাম্প যে আক্রমণ করতেন, এখন ঠিক সেই একই অস্ত্র তার দিকেই ফিরিয়ে দিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। এটি কেবল নিছক মজা নয়, বরং ২০২৬-এর রাজনৈতিক ডামাডোলে প্রেসিডেন্টের সক্ষমতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তোলার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
পাল্টা প্রতিরোধে রিপাবলিকান শিবির
ডেমোক্র্যাটদের এই আক্রমণকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে রিপাবলিকান পার্টি। হাউস স্পিকার মাইক জনসন প্রেসিডেন্টের পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দেখা সবচেয়ে উদ্যমী ও কর্মঠ নেতা। জনসনের মতে, ট্রাম্প দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমান।
জনসন আরও জানান, প্রেসিডেন্ট এতটাই কাজের নেশায় মত্ত যে অনেক সময় রাত ২টা কিংবা ভোর ৭টাতেও তিনি কর্মকর্তাদের ফোন করে দাপ্তরিক কাজের আপডেট নেন। রিপাবলিকান সমর্থকদের দাবি, ট্রাম্পের এই কম ঘুমানোর ক্ষমতা বা ‘শর্ট স্লিপার’ বৈশিষ্ট্যই তাঁর অসাধারণ সাফল্যের চাবিকাঠি। তাদের মতে, বৈঠকে চোখ বন্ধ রাখা মানেই ঘুমিয়ে পড়া নয়, বরং গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনাও হতে পারে।

