‘জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে এক চুলও নড়বে না সরকার’


‘জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে এক চুলও নড়বে না সরকার’

সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং সেই অঙ্গীকার থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন বনানীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির ঐতিহাসিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীকে এই আশ্বস্ত করেন।

প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অনড় প্রশাসন

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এবং একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসন হিসেবে কাজ করছে। আমরা নির্বাচনের আগে যে ইশতেহার দিয়েছিলাম এবং জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নে আমরা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার উদাত্ত আহ্বান জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতা গ্রহণের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সরকার তার প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। কড়াইলের এই জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, তার সরকার কেবল কথার ফুলঝুরি ছড়াতে নয়, বরং কাজের মাধ্যমে জনগণের সেবা করতে এসেছে।

ব্যক্তিগত আবেগ ও ফ্যামিলি কার্ডের দর্শন

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনকে একটি ‘ঐতিহাসিক ও আবেগের দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনাটি আমি অনেক আগে থেকেই লালন করে আসছি। আজ যখন এর বাস্তবায়ন হচ্ছে, তখন ব্যক্তিগতভাবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি কেবল একটি কার্ড নয়, এটি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নারীদের ঘরের কোণে বন্দি রেখে বা তাদের অবমূল্যায়ন করে একটি দেশ কখনোই সমৃদ্ধ হতে পারে না। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং তাদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তুলে দেওয়াই এই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের মূল দর্শন। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তার অংশীদার হবেন, যা তাদের সামাজিক অবস্থানকেও সুসংহত করবে।”


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের মূল পয়েন্টসমূহ:

  • অঙ্গীকার: জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না।

  • আহ্বান: মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সৃষ্ট বিশ্ব পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

  • ক্ষমতায়ন: দেশের অর্ধেক নারী জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

  • জবাবদিহিতা: এক মাসের কম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


মাঠ পর্যায়ের চিত্র ও জনমত

বনানীর টিঅ্যান্ডটি মাঠের এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে কড়াইল বস্তি ও আশপাশের এলাকার নারীদের মধ্যে এই কার্ড ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে এই প্রকল্পের উদ্বোধন তৃণমূলের মানুষের মনে সরকারের প্রতি আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে।

একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘ ১৫ বছর রাজনীতির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে আমি বলতে পারি, তারেক রহমানের এই পদক্ষেপটি মূলত ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ বা সরাসরি সুবিধা প্রদানের একটি আধুনিক সংস্করণ। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত অভাবী মানুষ সরকারের সুবিধার আওতায় আসবে। তবে এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সুষ্ঠু তদারকি ও স্বচ্ছতার ওপর।