মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে যখন তীব্র অস্থিরতা এবং দাম আকাশছোঁয়া, তখন দেশের বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর দিল সরকার, এপ্রিলেও বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম। বৈশ্বিক দাম বাড়লেও এপ্রিলে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্ববাজারে উত্তাপ, দেশের বাজারে স্থিতাবস্থা
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও বাংলাদেশ সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব পড়তে দেয়নি। মূলত মুদ্রাস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতেই টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দাম অপরিবর্তিত রাখার এই ‘সাহসী’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে নির্ধারিত দামেই এপ্রিল মাসেও জ্বালানি তেল বিক্রি হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অর্থনীতিবিদরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
মূল্য অপরিবর্তিত রাখার নেপথ্যে
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের নিয়ম চালু হলেও, বর্তমান সংকটের কথা বিবেচনা করে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভর্তুকির চাপ বাড়লেও সরকার চায় না উৎসবের মাস এপ্রিলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপাতে।
বিশেষ করে সেচ মৌসুম এবং ঈদ পরবর্তী যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে ডিজেলের দাম স্থিতিশীল রাখা অত্যন্ত জরুরি ছিল। ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় কৃষি উৎপাদন ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশা করা হচ্ছে।
এক নজরে এপ্রিলের জ্বালানি তেলের দরপত্র:
নতুন অফিস আদেশ অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার তেলের মূল্য তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
ডিজেল: ১০০ টাকা (প্রতি লিটার)
কেরোসিন: ১১২ টাকা (প্রতি লিটার)
পেট্রল: ১১৬ টাকা (প্রতি লিটার)
অকটেন: ১২০ টাকা (প্রতি লিটার)
অর্থনৈতিক প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ
টানা দুই মাস দাম না বাড়ানোয় বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) হয়তো মুনাফার ক্ষেত্রে কিছুটা চাপের মুখে পড়বে। তবে সরকারের লক্ষ্য হলো বাজারের মনস্তাত্ত্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বিশ্ববাজারে তেলের ব্যারেল প্রতি দাম যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এই দাম ধরে রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে আপাতত এপ্রিলে কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই যাতায়াত ও উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে পারবেন নাগরিকরা।

