হামে আরও ৭ শিশুর প্রাণহানি, উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রমণ


হামে আরও ৭ শিশুর প্রাণহানি, উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রমণ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখন আর কেবল সংক্রামক ব্যাধির স্তরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এক নীরব মহামারিতে রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৭টি শিশুর প্রাণ অকালে ঝরে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা দুইশ ছাড়িয়ে গেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।


২৪ ঘণ্টার শোকগাথা ও বর্তমান চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশু মারা গেছে। এই সাতটি প্রাণের বিয়োগান্তক বিদায় বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই ফুটিয়ে তুলছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, একই সময়ে নতুন করে ১৭২টি শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় ঠাঁই নিয়েছে আরও ৮৬০টি শিশু।

গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রকোপে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২টি শিশু মারা গেছে। তবে উদ্বেগের বড় জায়গাটি হলো ‘উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু’। এই তালিকায় যোগ হয়েছে ১৯৮টি শিশুর নাম। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে দুই শতাধিক পরিবারের কোল খালি হয়েছে এই সংক্রামক ব্যাধিতে।

সংক্রমণের নেপথ্যে কী?

দীর্ঘ দেড় দশকের সাংবাদিকতা জীবনে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য শিথিলতা কীভাবে বিপর্যয় ডেকে আনে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো বিচ্যুতি বা সচেতনতার অভাব এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা শিশুর শরীরে সামান্য র‍্যাশ বা জ্বরকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, যা পরবর্তীতে নিউমোনিয়া বা মারাত্মক শ্বাসকষ্টে রূপ নিয়ে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন শিশু হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, যারা ভর্তি হচ্ছে তাদের অনেকের মধ্যেই পুষ্টিহীনতা রয়েছে, যার ফলে হামের ভাইরাসটি দ্রুত তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেঙে দিচ্ছে।


সংকটের হালচাল: এক নজরে পরিসংখ্যান

  • গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: নিশ্চিত হামে ৩ জন, উপসর্গ নিয়ে ৪ জন (মোট ৭ জন)।

  • মোট মৃত্যু (১৫ মার্চ থেকে): হামে ৪২ জন, উপসর্গ নিয়ে ১৯৮ জন (মোট ২৪০ জন)।

  • হাসপাতালে নতুন রোগী: নিশ্চিত আক্রান্ত ১৭২ জন, উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ৮৬০ জন।

  • প্রধান ঝুঁকি: যারা নিয়মিত এমআর (Measles and Rubella) টিকা গ্রহণ করেনি, তারা সর্বোচ্চ ঝুঁকির মুখে।


শিশুদের এই অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্বাস্থ্য বিভাগের উচিত দ্রুত হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে ব্যাপক আকারে টিকাদান অভিযান শুরু করা। পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ থাকবে—শিশুর শরীরে লালচে দানা, জ্বর কিংবা সর্দি-কাশি দেখা দিলে ঘরে বসে না থেকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।