দেশে ভোজ্যতেলের কোনো বাস্তব সংকট নেই, বরং এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অনৈতিক মোনাফার লালসায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ে এক ত্রাণ ও অনুদান বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সংকটের মূলে নৈতিকতার অভাব
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই মন্ত্রী দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সরকারের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং আমদানির পথও মসৃণ। তবুও বাজারে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত কৃত্রিম। কিছু মানুষ দেশপ্রেম বর্জন করে কেবল ব্যক্তিগত লাভের জন্য পণ্য মজুত করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে।
ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার
এদিন ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ঢেউটিন ও নগদ অর্থের চেক বিতরণ করা হয়। ঘূর্ণিঝড় ও আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাদের পুনর্বাসনের লক্ষে এই বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা পরিষদ ও এলজিইডির পক্ষ থেকে স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, “সরকার কেবল মেগা প্রজেক্ট নিয়ে নয়, প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবেও সমানভাবে কাজ করছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারও যেন খোলা আকাশের নিচে না থাকে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”
ঠাকুরগাঁওয়ের এই অনুষ্ঠানটি কেবল চেক বা টিন বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল বাজারের অস্থিরতা নিয়ে সরকারের একটি স্পষ্ট অবস্থান জানান দেওয়ার মাধ্যম।

