কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার মারা গেছেন, ক্রীড়াঙ্গন ও বিনোদন জগতে শোকের ছায়া



লিভারের গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন জনপ্রিয় তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩০ বছর। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক কায়সার হামিদের কন্যা কারিনার এই অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইতিবাচক ও সৃজনশীল কনটেন্ট দিয়ে দ্রুত পরিচিতি পাওয়া কারিনা কায়সার গত কিছুদিন ধরেই লিভারের মারাত্মক সমস্যায় ভুগছিলেন। বাংলাদেশে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই একটি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আজ শনিবার তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মেয়ের মৃত্যুর নির্মম সত্যটি নিশ্চিত করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা কায়সার হামিদ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে চেন্নাই থেকে মুঠোফোনে তিনি এই প্রতিনিধির কাছে চিকিৎসালয়ের শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতির বিবরণ দেন।

আরও পড়ুনঃ পুরুষালি মানদণ্ড পেরিয়ে গবেষণার কেন্দ্রে এখন নারীর শরীর

কায়সার হামিদ জানান, “গতকাল রাতে ফুসফুসের একটি জটিলতার কারণে কারিনাকে বিশেষ অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছিল। ওই সময় হঠাৎ করেই ওর রক্তচাপ (ব্লাড প্রেশার) আশঙ্কাজনক মাত্রায় নিচে নেমে যায়। চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবনের এই কঠিন যুদ্ধে আমার মেয়েকে আর বাঁচানো গেল না।”

কারিনা কায়সারের বাবা কায়সার হামিদ আশির ও নব্বইয়ের দশকের দেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার এবং জাতীয় দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড়। শুধু তাই নয়, কারিনার দাদি হলেন বাংলাদেশের দাবা অঙ্গনের কিংবদন্তি এবং আন্তর্জাতিক নারী মাস্টার রানী হামিদ।

এমন এক স্বনামধন্য পরিবারের সন্তান হয়েও কারিনা নিজের ক্যারিয়ার গড়েছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারায়। নিজস্ব মেধা ও সৃজনশীলতাকে পুঁজি করে তিনি ডিজিটাল মাধ্যমে একজন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। পাশাপাশি ছোটপর্দায় অভিনয়শিল্পী হিসেবেও তাঁর সুপ্ত প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তাঁর আকস্মিক চলে যাওয়া দেশের উদীয়মান ডিজিটাল বিনোদন মাধ্যমের জন্য একটি বড় ধাক্কা। মৃত্যুকালে তিনি মা-বাবা, দুই ভাইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ভক্ত অনুরাগী রেখে গেছেন।