দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের সুসংবাদ এসেছে। সব বাধা পেরিয়ে দেশের মোট রিজার্ভের পরিমাণ আরও বেড়ে এখন ৩৪ হাজার ৩৭৬ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন বা ৩৪ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভের এই স্বস্তিদায়ক উল্লম্ফনের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বাজারে চলমান অস্থিরতা ও নানামুখী চাপের মধ্যে রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ধরনের বুস্টার হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মে মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত দেশের ‘গ্রস’ বা মোট রিজার্ভের পরিমাণ যেমন ৩৪ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছুঁয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠোর ব্যায়াম ও হিসাব পদ্ধতি ‘বিপিএম-৬’ অনুযায়ীও এর চিত্র বেশ আশাব্যাঞ্জক। আইএমএফের এই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বর্তমানে দেশের প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৭১৯ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন বা ২৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহে প্রবাসীদের পাঠানো রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এবং রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ফলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে ডলারের এই নতুন জোয়ার তৈরি হয়েছে। হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি এবং ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এটি মূলত তারই সরাসরি সুফল।

