আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিকতার সমস্ত রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুক্ত সাগরে এক নজিরবিহীন তাণ্ডব চালাল ইসরায়েলি বাহিনী।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দিতে যাওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ওপর মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় একযোগে হামলা চালিয়েছে দখলদার বাহিনী। এ সময় আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকেই ৫০টি নৌযানকে জোরপূর্বক আটকে দেওয়া হয় এবং বহরে থাকা ৪২৮ জন শান্তিকামী বিশ্ব মানবাধিকারকর্মীকে অপহরণ করে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’র বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এবং দ্য জেরুজালেম পোস্ট এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেছে।
যখন গাজার লাখ লাখ মানুষ অনাহার আর বোমাবর্ষণের মুখে ধুঁকছে, তখন বিশ্ববিবেকের তাড়নায় সাড়া দিয়ে বিভিন্ন দেশের নাগরিক সমাজ এই ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র যাত্রা শুরু করেছিল। এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ বেসামরিক উপায়ে অবরুদ্ধ মানুষের কাছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও শিশুখাদ্য পৌঁছে দেওয়া।
কিন্তু গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার অন্ধকার নামতেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত এই শান্তিকামী বহরের ওপর অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও কমান্ডো নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। কোনো ধরনের উসকানি কিংবা পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই ৫০টি ছোট-বড় নৌযানকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তারা। একে একে সবকটি নৌযানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানে থাকা ৪২৮ জন অধিকারকর্মীকে বন্দি করা হয়। এই ঘটনাটি কেবল একটি সামরিক আগ্রাসন নয়, বরং মুক্ত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌচলাচল আইনের (Freedom of Navigation) ওপর এক প্রকাশ্য নগ্ন আঘাত।

