মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত সহিংসতায় নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা সামাল দিতে দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে পূর্ণাঙ্গ রাখাইন সীমান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সার্বিক নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি তুলে ধরেন বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদাচ্ছিল।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংঘাত পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। এর প্রভাব সরাসরি এসে পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়। স্থানীয় গৃহযুদ্ধের প্রভাব এবং নিপীড়নের মুখে আবারো হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অভিমুখে ছুটে আসতে পারে—এমন আগাম তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির পরিচালক জানান, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির নিয়মিত প টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া হবে না। যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। নাফ নদীসহ পাহাড়ি সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে বিজিবির বোট টহল ও নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির মূল অগ্রাধিকার হলো জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত ঘেঁষে তৈরি হওয়া যেকোনো ঝুঁকি প্রতিহত করা।
বিজিবি জানিয়েছে, পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার আরও সুপরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে নতুন করে কোনো অস্থিতিশীলতা দেশের অভ্যন্তরে না ছড়ায়। সীমান্তবর্তী অধিবাসীদের চলাচলে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন যেকোনো গতিবিধি চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব থেকেই বাংলাদেশ সাড়ে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে চরম চাপে রয়েছে। তাই নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। বিজিবির এই কঠোর অবস্থান ও রাখাইন সীমান্ত প্রস্তুতি একদিকে যেমন দেশের সীমানা রক্ষা করবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও স্পষ্ট বার্তা দেবে যে বাংলাদেশের পক্ষে এককভাবে আর বাড়তি মানবিক চাপ বহন করা সম্ভব নয়।
বিজিবির সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য ছিল পরিষ্কার সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের সীমান্ত লঙ্ঘন কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি জারি রাখছে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

