শারদীয় দুর্গাপূজার সুবর্ণ আনন্দের দিনে ঘরমুখো ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের নির্বিঘ্ন রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে অভূতপূর্ব ও সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আসন্ন এই বড় ধর্মীয় উৎসবে ট্রেনযাত্রীদের সুরক্ষা বিধান, সার্বিক নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত অরাজকতা এড়াতে রাজধানী ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনসহ দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি কয়েক গুণ বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে বিনা টিকেটে কোনো যাত্রী যেন প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে না পারেন, সে জন্য স্টেশনের প্রবেশমুখে বিশেষ জিগজ্যাগ বেষ্টনী বসানোর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রেল সূত্রের তথ্যমতে, গত ১২ অক্টোবর রেল ভবনের সভাকক্ষে সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনায় এক বিশেষ জরুরি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রেলসচিব ফাহিমুল ইসলাম। উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের ভ্রমণ সহজতর করার লক্ষ্যেই এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন সহ রেলওয়ে প্রশাসনিক কার্যালয় এবং রেল পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত ও সুনির্দিষ্ট কৌশল তুলে ধরেন।
উক্ত সভার সুনির্দিষ্ট কার্যবিবরণীর কপি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পূজার ছুটির দিনগুলোতে ট্রেনযাত্রায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। দেশের সাধারণ মানুষের যাত্রাপথ নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সরকারের, আর সেই লক্ষ্যে প্রতি পদে সচেতন নজরদারি বজায় রাখবে বিশেষ পরিদর্শন দল।
উৎসবের সময়ে প্ল্যাটফর্মগুলোতে সাধারণত উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়, যার সুযোগ নিয়ে টিকেট ছাড়া বহু লোক ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা চালায়। এতে করে বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই সমস্যা সমাধানে বিশেষ জিগজ্যাগ বেষ্টনী ব্যবহারের কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি এমন এক ধরণের আঁকাবাঁকা নিরাপত্তা পথ, যা পার হওয়ার সময় টিকিট যাচাই-বাছাই করা বেশ সহজ হয় এবং হুড়োহুড়ি করে একযোগে ভেতরে ঢোকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনে শুরুতেই এই জিগজ্যাগ পদ্ধতি প্রয়োগ করে পরীক্ষা চালানোর পর তা অন্যান্য প্রধান স্টেশনেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

