এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন



তেলের দামে পতনের কারণে মঙ্গলবার এশিয়ার বেশির ভাগ জ্বালানি প্রতিষ্ঠানেরই শেয়ার দর হারিয়েছে। এদিকে চলমান বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের হুমকিতে বাণিজ্য আস্থা এখন খুব নড়বড়ে অবস্থানে চলে গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব এবং লিবিয়া নতুন করে তেল রফতানি শুরু করায় শেয়ারবাজারে এ প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সৌদি আরব, রাশিয়া ও ওপেকভুক্ত দেশগুলোর সর্বশেষ বৈঠকের সপ্তাহখানেক পরই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৈঠকে তেলের মূল্য নির্ধারণে ২০১৬ সালের নির্ধারিত উত্তোলন সীমা উঠিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
তেলের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদে নজর দিতে পারে এবং এশিয়ার কিছু দেশের জন্য সৌদি আরব উত্তোলন বাড়িয়ে দিতে পারে— এ আশঙ্কায় সোমবার শেয়ার বিক্রির ধুম পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া ইরান থেকে তেল আমদানির নিষেধাজ্ঞায় কিছু রাষ্ট্র ট্রাম্প প্রশাসন থেকে ছাড় পেতে পারে বলে গত সোমবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানিউচিন।
এগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে টরেন্টোভিত্তিক টিডি সিকিউরিটিজের গ্লোবাল কমোডিটি স্ট্র্যাটেজির প্রধান বার্ট মেলেক ব্লুমবার্গ নিউজকে বলেন, ‘মনে হচ্ছে জোগান বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় এমনটা ঘটেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জোগানের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে স্বল্প চাহিদার তেলের বাজার থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’
মঙ্গলবার তেলের দামের পড়তিতে আগের দিনের চেয়ে ৪ শতাংশেরও বেশি দর হারিয়েছে জ্বালানি কোম্পানিগুলো।
হংকংয়ের শেয়ারবাজারে জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সিএনওওসি ও পেট্রোচায়নার শেয়ারমূল্য ৩ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া সিডনিতে উডসাইড পেট্রোলিয়ামের শেয়ারমূল্য ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং টোকিওর বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইনপেক্সের দাম কমেছে ১ শতাংশেরও বেশি।
তেলের মূল্য হ্রাসের ফলে এশিয়ার প্রায় সব শেয়ারবাজারেই প্রভাব পড়েছে। হংকংয়ের শেয়ারসূচক কমেছে ১ দশমিক ২০ শতাংশ, সাংহাইয়ে সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ ও সিডনি সূচকেরও পতন হয়েছে শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ। এছাড়া সিউল, ওয়েলিংটন ও তাইপেয়ের শেয়ারবাজারও সূচক হারিয়েছে।
চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের ভয় বিনিয়োগকারীদের কোণঠাসা করে রেখেছে। উভয়পক্ষই সম্প্রতি একে অন্যের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে এবং আরো কয়েকশ কোটি ডলার পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আসছে। এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) উভয়পক্ষই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে।