চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি



চীনের অর্থনীতি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ সম্প্রসারিত হয়েছে। এ প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস অনুযায়ী হলেও তা আগের প্রান্তিকের তুলনায় কিছুটা শ্লথ।
মূলত বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছে যাওয়া ঋণ কমাতে দেশটির সংগ্রাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাবেই দেশটির অর্থনীতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। চীনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বাণিজ্য বিবাদ অব্যাহত থাকলে পুরো বিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এর আগে বিশ্লেষকরা বলেছিলেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ সম্প্রসারিত হবে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি এ পূর্বাভাস অনুযায়ীই সম্প্রসারিত হয়েছে, তবে তা প্রথম প্রান্তিকের ৬ দশমিক ৮ শতাংশের তুলনায় কম। প্রবৃদ্ধি নিয়ে এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সোমবার দেশটির শেয়ারবাজারে দরপতন লক্ষ করা গেছে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিবাদ বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই চীনের শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের চলমান বাণিজ্য বিবাদ নিয়ে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কের মন্তব্য প্রকাশের পর পরই চীনের অর্থনীতি নিয়ে এ তথ্য প্রকাশিত হলো। বেইজিংয়ে চীনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক সম্মেলনে ডোনাল্ড টাস্ক বাণিজ্য উত্তেজনা ‘চরম দ্বন্দ্বে’ রূপান্তরিত হতে পারে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াকে একটি সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন।
চীনের পরিসংখ্যান দপ্তরের মুখপাত্র মাও শেংইয়ং বলেন, ‘চীনের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ প্রান্তিক হিসেবে কমেছে, তবে সরকারের
নির্ধারিত বার্ষিক সাড়ে ৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা এখনো অনেক বেশি। তবে চীন অভ্যন্তরীণ এবং বহির্বিশ্ব— দুই দিক থেকেই খুবই জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন।’ প্রসঙ্গত, নিজেদের অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখতে বেইজিংকে এখন বহুদিক সামাল দিতে হচ্ছে। একদিকে বিপুল ঋণের বোঝা কমাতে তাদের কাজ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় মুদ্রা ইউয়ান এবং শেয়ারবাজার ধুঁকছে।
মাও আরো বলেছেন, বিশ্ব বাণিজ্যে রক্ষণশীলতা অব্যাহতভাবে বাড়ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ এবং এটি আমাদের জন্যও চ্যালেঞ্জ। এছাড়া অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এখনো ভারসাম্যহীন ও অস্থিতিশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাব এখনো সেভাবে অনুভূত হচ্ছে না উল্লেখ করে মাও জানিয়েছেন, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে বেইজিং। তবে এ যুদ্ধে উভয়পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন গভীরভাবে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত এবং দেশ দুটির শিল্প চেইনগুলো আন্তর্জাতিকভাবে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে আরো অনেক দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকস এক রিসার্চ নোটে জানিয়েছে, ঋণ প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি এবং আবাসন খাতের কার্যক্রম ধীরে প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্ধনশীল বাণিজ্য বিবাদের মতো ইস্যুগুলো চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধের প্রবৃদ্ধিতেও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৬ জুলাই চীন থেকে আমদানি করা ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ পণ্যে শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। আরো ২০ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছে দেশটি।
ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) টম রেফারতি জানিয়েছেন, চীনসহ অন্যান্য দেশে চাহিদা কমা নিয়ে তারা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস নিয়ে ইআইইউ খুবই চিন্তিত। এর ওপর বিনিয়োগ খুবই কম এবং ভোগব্যয়েও শ্লথগতি রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে রফতানির তুলনায় এগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক।