ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী ফয়সল আমীন



ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সব ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ফয়সল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এই উপনির্বাচনে মোট ভোট প্রদানের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন পাঁচজন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ফয়সল আমীন ও দেলাওয়ার হোসেনের বাইরে অন্য তিন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী বটগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৮ ভোট। বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট।

প্রকাশিত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ফল ও প্রয়োজনীয় পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে ফলাফলকে বেসরকারি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের আওতায় রয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল ৪টায় নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রগুলোতে গণনা শুরু হয়।

উপনির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। নির্বাচনে পাঁচ প্রার্থী অংশ নেন। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ, আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও অন্যান্য নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল বলে বাসস জানিয়েছে।

জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটের ব্যবধান, ভোটার উপস্থিতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জনসমর্থনও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাবে। তবে একটি আসনের ফলাফল দিয়ে সারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।