তাদের নিয়ে আক্ষেপ থাকবে, নাকি উল্লাস হবে?



ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা অনুর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের তৌহিদ হৃদয়ের চার ইনিংসে রান ৮২*, ১২৩*, ১১৫, ১১১। একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে টানা তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন হৃদয়। যুবাদের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সবচেয়ে রান (৪৫১) করেছেন, সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডও তাঁর। যুবাদের ক্রিকেটে বর্তমানে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সে। প্রথমে থাকা ক্রিকেটার বাংলাদেশের নাজমুল হোসেন শান্ত।

 

বর্তমান অনুর্ধ্ব-১৯ দলে আশা জাগানিয়া খেলোয়াড়দের অভাব নেই। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেছেন সেঞ্চুরি। ইংল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষেও সেঞ্চুরি ছিল তাঁর। জয় ছাড়াও পেসার হিসেবে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, তানজিম সাকিব, শরিফুল ইসলামরা অপার সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ঘুচাতে পারে লেগ স্পিনারের আক্ষেপ।

 

ফিনিশার হিসেবে আকবর আলীর দাপুটে ইনিংস মুগ্ধ করেছে সবাইকে। ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত সেই ত্রিদেশীয় সিরিজে ভারতকে হারানোর ম্যাচে তার সাবলীল রান তাড়া মনে থাকবে অনেকদিন। এছাড়া এই দলটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিনটি জয় পেয়েছে, টাই করেছে একটিতে- তাও ইংল্যান্ডের ডেরায়!

 

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ঊর্ধমুখী গ্রাফ পুরোনো কিছু নয়। আনামুল হক বিজয়, লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্তরা নিজেদের বয়সভিত্তিক দলগুলোতে নিজেদের প্রমাণ করেছিলেন বেশ। বিশ্ব ক্রিকেটে শাসন করার অভ্যাস দিয়েছিলেন। তাদের হাত ধরে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, প্রত্যাশা ছিল সবার।

 

অথচ, প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ প্রত্যেকেই নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে। জাতীয় দলের দরজা কখনো কখনো খুললে নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যর্থ বিজয়-শান্তরা আর ভরসা জাগাতে পারেনা। সে কারণেই হয়ত, বয়সভিত্তিক দলে কোনো উঠতি ক্রিকেটারের সেরা সাফল্যে ভরসা করার কিছু পায় না এই ক্রিকেট পাগল জাতি। কেননা, অতীতের পরিণতি যে সুখকর নয়!

 

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সময়টা ভাল যাচ্ছে না। পঞ্চপান্ডবের গল্পটা শেষ হওয়ার পথে। সাকিব নিষেধাজ্ঞায় নেই, মাশরাফির বয়স হয়েছে। তামিম-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ সময়ের চাওয়াতেই হয়ত একসময় ব্যাট-প্যাড তুলে রাখবেন। লিটন-সৌম্য-শান্তদের সেই জায়গা নেওয়ার কথা থাকলেও তারা ব্যর্থ। পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তাই খুঁজতে হবে হৃদয়, জয়, তানজিম, আকবর, মৃত্যুঞ্জয়দের মাঝেই।

 

উনিশ না পেরোনো সেসব ক্রিকেটাররা সামনেই খেলবে যুবাদের বিশ্বকাপ। এরপরই কঠিন পরীক্ষা। জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে সামিল হতে হবে। তাদের পরিণতি কেমন হবে? তারা কি সৌম্য-লিটন-সাব্বিরদের মতন আক্ষেপের জন্ম দেবে? নাকি সাকিব-তামিম-মুশফিকদের মতো করে লড়াই চালিয়ে যাবে!