নিখোঁজের পরদিন তুরাগ নদে মিলল বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ



নিখোঁজ হওয়ার ঠিক একদিন পর টঙ্গীর তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল নদের জলে ভাসমান অবস্থায় তার মৃতদেহটি উদ্ধার করে। আকস্মিক ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় নিহতের পরিবার এবং স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার থেকেই এই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা নিখোঁজ ছিলেন। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা সম্ভাব্য সব জায়গায় তার সন্ধান চালিয়েও কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। নিখোঁজের ঘটনাটি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ার মাঝেই বুধবার বিকেলে অপ্রত্যাশিত এই দুঃসংবাদটি আসে। স্থানীয় লোকজন প্রথমে নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে নৌপুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন।

খবর পেয়ে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মৃতদেহটি পানি থেকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃতদেহ উদ্ধারের সময় তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য লাশটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কীভাবে একজন সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নিখোঁজ হলেন এবং শেষ পর্যন্ত তুরাগ নদে তার লাশ মিলল, তা নিয়ে ব্যাপক ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্ট, নিখোঁজ হওয়ার আগের গতিবিধি এবং আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের উদ্যোগ নিয়েছেন। ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো বিরোধ এই ঘটনার পেছনে প্রভাব ফেলেছে কি না, গোয়েন্দারা সেই দিকটিও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন।