প্রাণী সম্পর্কিত দেশের প্রথম অ্যাপ বানালেন প্রবাসী শফিকুল



সম্প্রতি, দেশের জন্য সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে প্রাণী সম্পর্কিত একটি অ্যাপ বানিয়েছেন, জার্মানিতে বসবাসরত শফিকুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবক। অ্যাপটি তৈরিতে শফিকুলের সঙ্গে কাজ করেছেন দেশি-বিদেশি ২৭ জন প্রাণিবিজ্ঞানী।

এই অ্যাপটির মাধ্যমে দেশের কোন এলাকায় কোন প্রাণী রয়েছে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে স্নাতক শেষ করে বন্য প্রাণী বিভাগে মাস্টার্স করেন। উচ্চতর ডিগ্রি নিতে তিনি ২০১৪ সালে জার্মানি চলে যান। এরপর সেখানে তিনি ২০১৭ সালের অক্টোবরে মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন। গত বছরের এপ্রিলে পাখির বিবর্তনের ওপর পিএইচডি করেছেন। এখন তিনি ড্রেসডেনে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে গবেষক হিসেবে কাজ করছেন।

শফিকুল জানান, প্রাণী সম্পর্কিত এই অ্যাপটি শুধু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্যবহার করা যাবে। শুরুতে ৭৫২ প্রজাতির প্রাণী, উদ্ভিদ, বুনো ফুল এবং ঔষধি গাছের তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। তবে এতে মূল আলোকপাত করা হয়েছে প্রাণীর ওপর। তিন মাস পর অ্যাপটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও ট্যাবলেটে ইনস্টল করা যাবে। আরও কিছু পরে নতুন ফিচার নিয়ে অ্যাপটি আইফোনে ব্যবহার করা যাবে বলেও তিনি জানান।

এছাড়াও, এই অ্যাপের মূল সমন্বয়ের কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত আরেক বাংলাদেশি প্রাণিবিজ্ঞানী রোখসানা সুলতানা এবং বিশেষজ্ঞ হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম নিয়ামুল নাসের।

শফিকুল জানান, শুধু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যাপটি ব্যবহার করা যাবে। শুরুতে ৭৫২ প্রজাতির প্রাণী, উদ্ভিদ, বুনো ফুল এবং ঔষধি গাছের তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। তবে এতে মূল আলোকপাত করা হয়েছে প্রাণীর ওপর। তিন মাস পর অ্যাপটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও ট্যাবলেটে ইনস্টল করা যাবে। আরও কিছু পরে নতুন ফিচার নিয়ে অ্যাপটি আইফোনে ব্যবহার করা যাবে।

শফিকুল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে স্নাতক শেষ করে বন্য প্রাণী বিভাগে মাস্টার্স করেন। উচ্চতর ডিগ্রি নিতে ২০১৪ সালে তিনি জার্মানি চলে যান। সেখানে ২০১৭ সালের অক্টোবরে মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন। গত বছরের এপ্রিলে পাখির বিবর্তনের ওপর পিএইচডি করছেন। এখন ড্রেসডেনে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে গবেষক হিসেবে কাজ করছেন।

তৈরিকৃত এই অ্যাপে বাংলা ও ইংরেজি দুটো ভাষা থাকবে। অ্যাপটি চালু করলে প্রাণিজগতের নয়টি বিভাগের শ্রেণি, গোত্র ভেসে উঠবে। এর মধ্যে যেকোনো একটি বিভাগে ক্লিক করলে প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম, ইংরেজি ও বাংলা নাম, স্থানীয় নাম, বৈশিষ্ট্য ও ৫০ শব্দের মতো বর্ণনা আসবে। বাংলাদেশের আটটি বিভাগ অনুসারে প্রাণীগুলোর ম্যাপিং করা হয়েছে। একটি টেক্সট বাটন আছে, যেখানে যেকেউ তার দেখা কোনো প্রাণীর বর্ণনা ও ছবি যুক্ত করতে পারবেন। এ ছাড়া এখানের তথ্য ও ছবি বার্তার মাধ্যমে অন্য কাউকে পাঠাতে পারবেন। ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপে লাইভেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।

এই অ্যাপে ১ হাজার ৩০০–র মতো প্রাণী যুক্ত করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় অ্যাপটিতে রাখা হয়েছে ৭৫২ প্রজাতি। এর মধ্যে স্তন্যপায়ী ২৭ প্রজাতি, সরীসৃপ ৫৬, উভচর ২২, মাছ ২৭, প্রজাপতি ২২৭, মথ ১২, ঘাসফড়িং ২৫, বিষধর সাপ ৮, মশা ও মাছি ৮, চিংড়ি ৫, মাকড়সা ৫, বুনো ফুল ৯০, ঔষধি গাছ ১৪ এবং পাখি ২২৬ প্রজাতির। পাখির মধ্যে ২১৯ প্রজাতির পাখির শব্দ শুনে শনাক্তকরণের সুবিধা রয়েছে। জেনোকান্ত নামের একটি বিদেশি সংগঠন পাখির ডাক বিনা মূল্যে এই অ্যাপের জন্য দিয়েছে, তারা ব্যবহারকারীদের জন্য স্বত্ব মুক্ত করে দিয়েছে।

এছাড়াও,  অ্যাপে একটি বাটন থাকবে, যেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাণী শনাক্তকরণের সহযোগিতা পাওয়া যাবে।  কেউ কোনো প্রাণীর ছবি তুললে অ্যাপটি সেই প্রাণীটি সম্পর্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য দেবে। বলে জানানো হয়েছে।