বদ্ধ মানুষ, মুক্ত জীবজন্তু



কথায় আছে, ‘Unity we stand, divided we fall. সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রবাদ যে ডাহা মিথ্যা কথা তাই যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এই অদেখা, অচেনা ভাইরাস।

এক সাথে থাকা যাবে না, এক হয়ে থাকা যাবে না। বেঁচে থাকতে হলে, টিকে থাকতে হলে একা থাকতে হবে। আলাদা হয়েই থাকতে হবে। গৃহবন্দি হয়ে দিন যাপন করলেই যেন মুক্তি।

পুরো পৃথিবী থেমে গেছে, স্থবির হয়ে গেছে জনজীবন। গাড়ি চলছে না, উড়োজাহাজ উড়ছে না। জ্বালানি পুরিয়ে কারখানা চলছে না। দূষিত বায়ু হচ্ছে বিশুদ্ধ। আর এ বিশুদ্ধ বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না মানুষ। কেননা ঘরে বসেই টিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে!

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে শিরভাগ শহরের মানুষই এখন ঘরবন্দি। তাই রাস্তা-ঘাট ফাঁকা, গাড়ির সংখ্যাও হাতে-গোনা। করোনা আতঙ্কের জেরে এখন গৃহবন্দি মানুষ আর মুক্ত বন্যরা।

জাপানের নারা পার্ক সংলগ্ন এলাকায় ফাঁকা রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে একপাল হরিণকে। বিরল প্রজাতির সিকা হরিণের বাসস্থান জাপানের এই নারা পার্কে। তাদের দীর্ঘদিনের বাস এখানে। এই মুক্ত চিড়িয়াখানা দেখতে ভিড়ও জমান পর্যটকরাও।

ইদানীং করোনা উপদ্রবে দর্শকশূন্য হয়েছে জাপানের চিড়িয়াখানাও, এমনকি বনবিভাগের কর্মীদেরও সহজে খুঁজে পাওয়া দায়! এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবই তাই এখানকার হরিণদের নিয়মিত খাবার দেওয়াও বন্ধ হয়েছে। তাই খোরাকের সন্ধানেই শহরের রাস্তায় ঘুড়ে বেড়াচ্ছে সিকা হরিণের দল।

এদিকে, থাইল্যান্ডের লোপবুড়ি শহরের বন্ধ স্কুল, শপিং মলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হনুমানের দল। একই ভাবে পৃথিবীর ব্যস্ত শহরগুলিতে ফাঁকা রাস্তা-ঘাটে দেখা মিলছে অনেক নাম না জানা পরিযায়ী পাখির।

এই সব দৃশ্য দেখে করোনা আতঙ্কের মধ্যেও মন ভাল হয়ে গিয়েছে অনেকের। প্রকৃতিকে খাঁচা-বন্দি করা সুসভ্য মানুষ এখন নিজেরাই চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে আর এতদিন খাঁচায় আবদ্ধ বন্যরা এখন মুক্তির স্বাদ নিচ্ছে প্রাণ ভরে।