‘বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার ৫২ শতাংশ’


unicef

আমাদের যতগুলো সামাজিক ব্যাধি রয়েছে বাল্যবিবাহ তার মধ্যে অন্যতম। বাল্যবিবাহ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়েকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করাকে বোঝায়। তবুও বোঝে কয়জন!

আমাদরে দেশে বাল্যবিবাহের হার ৫২ শতাংশ যেখানে প্রতিবেশী দেশ ভারতে এর হার ৪৭ শতাংশ।

বিশ্বে বাল্যবিবাহের সমসাময়িক অবস্থা নিয়ে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা- ইউনিসেফ এর চালানো এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

ওই পরিসংখ্যানে আরো জানা যায় যে, বাল্যবিবাহের স্বীকার এমন ছেলেমেয়েদের মধ্যে সাড়ে এগারো কোটিই ছেলে শিশু। আর এই সাড়ে এগারো কোটির মধ্যে প্রতি ৫ জনে একজন যারা বিবাববন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে তাদের প্রত্যেকেরই বয়স ১৫ বছরের কম।

বাল্যবিবাহের হার সবথেকে বেশী এমন ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে ৫ম স্থানে রয়েছে।

ইউনিসেফ জানায়, স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুদের মধ্যে বাল্যবিবাহের স্বীকার হওয়া শিশুর সংখ্যাই বেশি। একই সাথে সংকুচিত হয়ে পড়ে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথও।

জাতিসংঘের এই সংস্থাটি আরো জানায়, সঠিক বয়সে বিবাহিতদের তুলনায় এসব শিশুরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকারও হয়।

মোট ৮২টি দেশের জনসংখ্যা ও বিয়ের তথ্য সংগ্রহ করেছে ইউনিসেফ৷ বাল্যবিবাহে ছেলে শিশুর সংখ্যা বেশি এমন দেশের মধ্যে ২৮ শতাংশে রয়েছে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।

এরপর ১৯ শতাংশ নিয়ে রয়েছে মধ্য অ্যামেরিকার দেশ নিকারাগুয়া ও ১৩ শতাংশ নিয়ে রয়েছে আফ্রিকার আরেক দেশ মাদাগাস্কারের নাম৷

‘‘বিয়ে শৈশব কেড়ে নেয়৷ শিশু বরকে বয়স্কদের সব দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হয়, যেসবের জন্য হয়তো তখনও তারা প্রস্তুত না৷ এতো আগে বিয়ে করায় অনেকে বাবাও হয়ে পড়ে খুব দ্রুত৷ ফলে পড়াশোনা ও ভালো চাকরির সন্ধান বাদ দিয়ে তাদেরকে পরিবারের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দায়িত্ব নিতে হয়৷” প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হেনরিটা ফোর এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

এ পরিসংখ্যানটি বিশ্লেষণ করার পর ইউনিসেফ জানায়, বর্তমানে বিশ্বে মোট শিশুর সংখ্যা ২২০ কোটি যার মধ্যে সাড়ে ৭৬ কোটিই এখন বিবাহিত৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এখনো ছেলে শিশুর তুলনায় মেয়ে শিশুরাই বাল্যবিবাহের স্বীকার বেশি হয়। এর দরুণ অকালে গর্ভধারণ করে স্বাস্থ্য সংকটে রয়েছে অনেকেই।

ইউনিসেফের দেয়া তথ্যমতে, গোটা বিশ্বে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী মেয়েদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে ১৮তম জন্মদিনের পূর্বেই৷

“অন্তত পাঁচ কোটি বাল্যবিবাহ রোধ করা সম্ভব হতো যদি মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত মেয়ে শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা যেতো” অক্টোবরে প্রকাশিত চ্যারিটি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এর এক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করে সংস্থাটি।

জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো ২০১৫ সালে যে বৈশ্বিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ে একমত হয়েছিল তাতে বলা হয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ একেবারে নির্মূল করা হবে।

এ বিষয়ে গবেষণা করা অন্য একটি সংস্থা জানায়, বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স প্রতিটি দেশেই ১৮ বছর। কিন্তু এখনো মা বাবার অনুমতি নিয়ে এবং সম্পূর্ণ ধর্মীয় আচার আচরণ মেনে ১৮ বছরের আগেই বিয়ে করার বৈধতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো কিছু দেশেও রয়ে গেছে আজও।