মাঠের বাইরেও তিনি একজন সাইলেন্ট কিলার



সাকিব আল হাসানের ইনজুরি হয়, ইনজুরিতে পড়েন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল এক হাতে ব্যাট করেন, ইনজুরি নিয়েই বাংলার নায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তাদের নিয়ে উৎকণ্ঠার শেষ হয় না।

তাদের ইনজুরিতে থাকে ভয়, যদি তাঁরা খেলতে না পারেন? এই শঙ্কা উঁকি দেয়, চিন্তিত হয় ক্রিকেট পাড়া।

তবে এসব চিন্তা হয় না তাকে নিয়ে। তার ইনজুরি নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য হয় না। তিনি মাঠের লড়াইয়ের মত নীরবেই করে যান চোটের সাথে লড়াই। এই সংগ্রামে কেউ তার পাশে থাকে না।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, বাংলাদেশের ক্রিকেটে যাকে বলা হয় সাইলেন্ট কিলার। ব্যাট হাতে, কিংবা কখনো বল হাতে করে যান নিজের কাজ। কিন্তু কখনো সামনে আসেন না। নিজের সেরা দিনেও হয়ত তার সবটুকু আলো কেড়ে নেওয়া হয়।

অন্যের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের আড়ালে ঢাকা পড়ে যান সবসময়। তারপরও তিনি তার কাজটুকু করে যান, নীরবে।

মাহমুদুল্লাহর ইনজুরি সমস্যা বিশ্বকাপের আগে থেকে। কাঁধের ইনজুরিতে ভুগছেন বেশ কিছুদিন ধরেই। অপারেশন করানোর কথা থাকলেই, বিশ্বকাপের জন্য তা পিছিয়েছেন। বিশ্বকাপের পরই হয়ত ছুরি কাঁচির নীচে সঁপে দেবেন নিজেকে।

তারপরও তাকে নিয়ে কথা হয় না। শঙ্কা জাগে না। ভয় হয় না। অথচ পান থেকে চুন খসলেই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হয়।

এই বিশ্বকাপটা খেলছেন কাঁধে পট্টি বেঁধে। নাহলে যে ব্যাথা করে, খেলতে অসুবিধা। শেষ ম্যাচ খেলেছেন পায়ে পট্টি বেঁধে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমেই পায়ে চোট পান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তারপরও তিনি উঠে যাননি। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে রান করেছেন। প্রয়োজনের সময় মাঠে ছিলেন।

সেই মাহমুদুল্লাহ এখনো চলছেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ক্রাচে ভর দিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে চলেছেন। আফগানিস্তান ম্যাচের পর এমনই এক ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমগুলোতে।

যেই পায়ে বড় করে কত ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ! সে পা ক্রাচে ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে ধীর লয়ে। এমন কিছু চোখে দেখতেও কষ্ট হয়, বুক ভেঙে আসে তীব্র আর্তনাদ।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ ২রা জুন। হাতে দীর্ঘ সময়। ম্যানেজমেন্ট প্রত্যাশা করছে, এরই মাঝে সুস্থ হয়ে উঠবেন মাহমুদুল্লাহ।

মাহমুদুল্লাহই আশ্বস্ত করেছেন, তিনি খেলবেন। খেলার মত সামান্য ফিট হলেও তিনি মাঠে নামবেন।

হ্যা, তিনি মাঠে নামবেন। পায়ে তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করেই তিনি খেলবেন। আবার হয়ত কোনো অতিমানবীয় খেলায় জেতাবেন দলকে। কিন্তু দিন শেষে, আবারো পার্শ্ব চরিত্রে!