মেসি কি তবে বদলে গেলেন?



গোল মেশিন খ্যাত লিওনেল মেসি এখন যেন বড্ড অচেনা। গোলের দেখা নেই, মেসির শটগুলো খুঁজে পাচ্ছে না জালের নিশানা। শেষ চার লীগ ম্যাচে আর্জেন্টাইন জাদুকরের গোল সংখ্যা শূন্য।

চলতি বছরে যে সংখ্যা চার, মেসির নামের পাশে বড্ড বেমানান এ সংখ্যা। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো প্রতি ম্যাচেই গোল করে চলেছেন, সেখানে মেসির পায়ে গোল না থাকাটা হতাশার। সমর্থকরা হতাশ মেসির বা’পায়ের দুর্দান্ত গোলের দেখা না পেয়ে।

মেসি কি তবে ফুরিয়ে গেলেন? বয়সের কাছে হার মানলেন তবে? তা অবশ্যই নয়। মেসি এখন গোল করেন না ঠিকই, তবে বার্সেলোনাকে টেনে তুলছেন। এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন একটু একটু করে।

ভঙ্গুর বার্সেলোনা দলের ত্রাতা হিসেবেই লড়ছেন একা, নিজের দু’পায়ে ভর করে। খেলছেন ইনজুরি নিয়েও। এখন গোল করেন না, তবে গোল করাতে কার্পণ্য করেন না কিছুতেই। মেসির নিশানা ভেদ করা পাস থেকে গোল করেন গ্রিজমান, ফাতিরা। যাতে বার্সা জয় লাভ করে, পরাজয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ছুটে চলে।

বার্সেলোনার শেষ সাত গোলের ছয়টিই করিয়েছেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি নামক ফুটবল জাদুকর। গতকাল গ্রানাদা ম্যাচে পুরো মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছিলেন, যেন পুরোদস্তুর একজন মিডফিল্ডার।

যেখানে শট নিয়েছেন ৬টি। এর মধ্যে গোল মুখে রাখতে পেরেছেন ২টি শট। প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়েছেন ৫বার, গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন ৩টি- যার একটিতে গোল করেছেন গ্রিজমান।

গোল খরায় থাকা মেসি ১৯ ম্যাচে ১৪ গোল করা বার্সা তারকা এখনো সর্বোচ্চ গোলদাতা। এর মধ্যে দুটি হ্যাটট্রিক রয়েছে। ৩ ম্যাচের আগে মেসি লিগে যে ২০টি ম্যাচ খেলেছেন, এর মধ্যে ৬টি গোল বানিয়ে দিতে পেরেছিলেন। শেষ ৩ ম্যাচ শেষে যা ১২তে এসে দাঁড়িয়েছে।

মেসির এমন গোলক্ষরা দেখা গিয়েছিল ২০১৪ সালেও। টানা ৮ ম্যাচে গোল পাননি সেবার। ২০১৬ সালেও বেশ কিছু ম্যাচে টানা গোল পাননি তিনি। তখনও অনেকে মেসির শেষ দেখে ফেলেছিলেন।

তবে, মেসিরা যে ফুরিয়ে যান না। শেষ থেকেই আবার শুরু করেন। ছাইভস্ম থেকে আবার ঘুরে দাঁড়ান, আবারো নতুন উদ্যমে লড়াই করেন। ঠিক ফিনিক্স পাখির মতো।