লিটন-সাকিব, বাংলাদেশের বিজয় নিশান!



মোহাম্মদ মিথুনের বদলে লিটন কুমার দাস। বাংলাদেশ দলে কেবল একটি পরিবর্তন। অনেক আলোচনা, সমালোচনার পরে চতুর্থ ম্যাচে এসে পরিবর্তন এনেছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

ভাগ্যিস, পরিবর্তনটা এসেছিল! না হলে এমন স্বস্তির জয়, দাপুটে জয় যে মিস হয়ে যেত। মুশফিকুর রহিম যখন আউট হন বাংলাদেশের রান তখন ১৩৩। স্কোরবোর্ডে তিনটি উইকেট নেই। এর ১২ রান আগে আউট দুর্দান্ত খেলতে থাকা তামিম ইকবাল আউট ৪৮ রান করে।

খুব দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশের এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন আগের তিন ইনিংসে দুইটি অর্ধশতক, ও একটি শতক করা সাকিব আল হাসান।

সাকিবের সাথে জুটি গড়তে ক্রিজে আসেন লিটন কুমার দাস। এই দুজনের অবিচ্ছেদ্য জুটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতিয়েছে।

৩২২ এর বিশাল লক্ষ্যকে ভয় পেয়ে নয়, ভয়কে জয় করেই জিতেছে বাংলাদেশ। দাপটের সাথে খেলে ৫১ বল হাতে রেখে সাত উইকেটে জয় পেয়ে সেমিফাইনালেএ আশা বাঁচিয়ে রেখেছে মাশরাফি বাহিনী।

সাকিব চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলেছেন, পুরো বিশ্বকাপে সপ্তম ব্যাটসম্যান। প্রথম বাংলাদেশি। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেছেন।

এ দিনে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ছয় হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব। সব থেকে কম সময়ে ছয় হাজার রান ও দু’শ উইকেটের ডবল নেওয়া ক্রিকেটার তিনি। আজ অপরাজিত ছিলেন ১২৪ রানে। খেলেছেন মাত্র ৯৯টি বল।

অপরদিকে লিটনের আক্ষেপ কেবল ৬ রান। অপরাজিত থাকলেও ৯৪ রানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। কেননা, তাড়া করার জন্য আর কোনো রান বাকি ছিল না। লিটন বল খেলেছেন ৬৯টি।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে শাই হোপের ৯৬, এভিন লুইজের ৭০, হিটমেয়ারের ২৬ বলে ৫০, হোল্ডারের ১৫ বলে ৩৩ এই সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২১ রান জমা করে।

জবাবে ৪১.৩ ওভারে সাকিবের ১২৪* ও লিটনের ৯৪* রানের উপর ভর করে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২৫০ এর বেশি টার্গেট তাড়া করে জেতেনি কোনো দল। সেখানে বাংলাদেশ জিতেছে ৩২২ এই লক্ষ্যে।

এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে টাইগাররা। টাইগারদের আগামী ম্যাচ ২০ জুন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।