লেডি গাগা: ধর্ষিতা কিশোরী থেকে তারকা



লেডি গাগা যখন সবেমাত্র শিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তখন তার প্রেমিক তাকে বলেছিলেন,  ‘তুমি জীবনে কখনো সফল হবে না। কখনো তোমার একটা গান হিট হবে না। এবং তুমি কখনোই গ্র্যামির জন্য মনোনীত হবে না।

সেই সময় গাগা তার উত্তরে বলেছিলেন যে, একটা সময় আসবে, যখন আমরা একসাথে থাকব না। কিন্তু,  সেদিন তুমি রেস্তোরায় বসে আমার গান না শুনে বা আমার চেহারা না দেখে কিছুই অর্ডার করতে পারবে না। শহরের প্রতিটা রেস্তোরা এবং কফিশপে সবখানেই আমার গান বাজবে, আমার ছবিতে ছেয়ে যাবে প্রতিটি বিলবোর্ড আর দেয়াল।  তবে সেসব গাগা শুধু মুখেই বলেননি, তার প্রমাণ ও তিনি দিয়েছেন।

লেডি গাগা; নামটি এখন আর কোন বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পীরই নাম নয়, নামটি একজন অভিনয় শিল্পীরও। কারও অজানা নয় যে  ‘আ স্টার ইজ বর্ন’ নামের একটা চলচ্চিত্র দিয়ে গায়িকা থেকে রীতিমতো নায়িকা হিসেবে জন্মলাভের গল্পটা।

৯১তম অস্কারে জনপ্রিয় ‘শ্যালো’ গানটির মাধ্যমে সেরা মৌলিক গান বিভাগে অস্কার জিতেছিলেন তিনি। আজ লেডি গাগা নামটি যে এত তারকা খ্যাতি পেয়েছে তার পেছনের গল্পটা ছিল অনেক বিষাদময়, অনেক ভয়ানক অন্ধকারের।

লেডি গাগার শৈশব অনেক দুঃখ,কষ্টে ভরা ছিল। তিনি যে স্কুলে পড়তেন সেখানে তার সহপাঠীরা কখনোই তাকে মেনে নেননি। তার ছাড়াও, তার অদ্ভুদ চেহারার জন্যও তাকে সবসময় বিরক্ত করেছিলো।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হন অস্কারজয়ী এই শিল্পী। এরপর মারাত্মক হতাশায় ডুবে যান। মেনে নিতে না পারার কষ্ট, কাউকে বলতে না পারার কষ্ট আর ভয়। এভাবেই তার কয়েক বছর কেটে যায়।

তারপর তিনি আবারও যৌন নিপীড়নের শিকার হন।  সমস্ত নিপীড়ন আর হতাশার কথা চিৎকার করে পুরো পৃথিবীকে শুনিয়ে দেন। অনেকটাই হালকা হলেন। অনেক বছর পর সেই রাতে তিনি  ঘুমালেন। সবচেয়ে বেশি গুগলে খোঁজ করা শিল্পী হওয়ার গল্প এই ঘুমের পরই।এখন পর্যন্ত যাদের অ্যালবাম সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে, সেই তালিকায় তার নাম উঠেছিল এই ঘুমের পর।

তিনি বলেন, আমার অতীতের মারাত্মক হতাশা, ভয়ংকর দুশ্চিন্তা আর ভীতসন্ত্রস্ত নির্ঘুম রাতগুলো আমার জীবনটা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

আমি নিয়মিত হতাশা আর অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ওষুধ খেতাম। তিনি জানান,  ঘুমের ওষুধ না খেয়ে সে সময় দুই ঘণ্টাও ঘুমাতে পারিনি। ডাক্তার অনেক বারণ করেছে। পরবর্তীতে এই অসুস্থতা গুরুতর স্নায়ুর সমস্যায় রূপ নেয়। তা আমার মানসিক অস্থিরতা ও ব্যক্তিত্বের সংকট তৈরি করে।

শেষ পর্যন্ত আমি মেডিটেশনের দিকে মনোযোগ দেই। মাঝেমধ্যে গভীরভাবে প্রার্থনায় মগ্ন থেকেছি। সেই জীবনেও গান আর কবিতা আমাকে শান্তি দিয়েছে, কিছু সময়ের জন্য হলেও সবকিছু ভুলিয়ে দিয়েছে।

এরপর আমি তালিকা তৈরি করি। যে কাজগুলো আমার মন করতে চায় না, সেগুলোকে এড়িয়ে চলা শুরু করি। দেখলাম, দিন শেষে আমি বেশ আনন্দ অনুভব করছি। এভাবেই অন্ধকার দিনগুলোর সঙ্গে নিজের যুদ্ধের কথা বলেছেন ২০১৩ সালে বিখ্যাত ম্যাগাজিন ‘ফোর্বস’-এর তালিকায় ৪৫ বছরের কমবয়সী হিসেবে  সবচেয়ে প্রভাবশালী নারীদের শীর্ষে জায়গা করে নেওয়া এই মার্কিন শিল্পী।

লেডি গাগা বলেছেন, জীবনে হেরে যাওয়াই সবকিছু নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জীবনে কখনোই হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না। যদি তুমি স্বপ্ন দেখো, তাহলে সেই স্বপ্নের জন্য যুদ্ধ করো।