সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজে বাড়ছে রাজধানীর বায়ুদূষণ



পূর্বের বছরগুলোতে রাজধানীর বাতাস বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১২০ থেকে ১৬০ দিন দূষিত থাকলেও গত বছর ১৯৭ দিন দূষিত বাতাসে ডুবেছিল ঢাকাবাসী।

সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যে দেখা যায়, গত চার বছর ধারাবাহিকভাবে দূষণের সময় বা দিন বাড়ছে। সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজধানীর বাতাস দূষিত থাকে। সবচেয়ে বেশি দূষণ থাকে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

আরও পড়ুন : ৭০% চালকের চোখে সমস্যা, যার মধ্যে ৩০% রোড সাইন পড়তে পারেন না

তবে গত দুই বছর ধরে এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটছে। দুই বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, মার্চ ও এপ্রিলের বাতাসও জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি মাসের মতো খারাপ থাকছে। এর আগে এপ্রিলে এসে বাতাসের মান মোটামুটি ভালো অবস্থায় ফিরত। কিন্তু গত বছরের এপ্রিল মাসেও রাজধানীর বাতাস খুবই খারাপ ছিল।

সম্প্রতি চলমান একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালে ১৬৫ দিন রাজধানীর বায়ু অস্বাস্থ্যকর থেকে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর ছিল। ২০১৫ সালে তা বেড়ে ১৭৩ দিন, ২০১৬ সালে ১২৯ দিন, ২০১৭ সালে ১৮৫ দিন ও ২০১৮ সালে ১৯৭ দিন ছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ঢাকার বায়ুর মান পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, রাজধানীর বাতাসে দ্রুত দূষণকারী পদার্থ ছড়িয়ে পড়ছে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজের কারণে। আর দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই সরকারি। পরিবেশ অধিদপ্তর এদের কয়েকবার চিঠি দিয়ে দায় সেরেছে। কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে, দূষণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পগুলো হলো মেট্রোরেল নির্মাণকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ (উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত), ২০ তলা নির্মাণাধীন জাতীয় রাজস্ব ভবন নির্মাণ কর্তৃপক্ষ, ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর এবং দক্ষিণ, ঢাকা ওয়াসা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল সম্প্রসারণ কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ২৪ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্মাণাধীন ১৪ তলা ভবন কর্তৃপক্ষ, ভূগর্ভস্থ কেব্‌ল লাইন প্রকল্প, ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর)–এর আগারগাঁও রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ১৪ তলা বিটিইবি ভবন-২ প্রকল্প, নির্মাণাধীন বিটিআরসি ভবন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নির্মাণাধীন ১৩ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প অন্যতম। দূষণ ছড়ানোর তালিকায় আছে বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত নির্মাণকাজও।

অধিদপ্তর এদের চিঠি দিয়ে দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। কিন্তু কেউই তেমন সাড়া দেয়নি। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় সভায় ডাকা হলেও বেশির ভাগ সংস্থা তাদের মাঝারি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে দায় সেরেছে। অনেকে তা–ও করেনি।

প্রতিটি বড় প্রকল্পে দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক দুর্ভোগ এড়ানোর জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান তা ন্যূনতম পর্যায়েও মানছে না। ধুলা নিয়ন্ত্রণে ঠিকমতো পানি ছিটানো ও কর্মক্ষেত্রের চারপাশ ঘিরে রাখার কাজও করছে না তারা।