হ্যাকিংয়ে এগিয়ে সরকার সমর্থিত রুশ হ্যাকাররা



গত তিন বছর ধরে এমন কোন একদিন বাদ যায়নি যে, রুশ সরকার সমর্থিত ফেন্সি বিয়ার বা সোফেসির মত গ্রুপ নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি।

তার কারণ আছে বৈকি! তা হল রুশ হ্যাকাররা উদ্ভাবনশীল, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও দল হিসেবে এই গ্রহের দ্রুততম।

এই মতামত ব্যক্ত করেছেন ক্রাউডস্ট্রাইক ওয়েবসাইটের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। যারা সম্প্রতি ত্রিশ হাজার হ্যাকিং এর ঘটনার উপাত্ত পর্যালোচনা করে এই অভিমত দিয়েছেন।

ক্রাউডস্ট্রাইকের শীর্ষ তালিকা অনুযায়ী, রুশ হ্যাকাররা প্রাথমিক আক্রমণ থেকে শুরু করে আক্রান্ত নেটওয়ার্কের কম্পিউটার ও ডিভাইসগুলো খুঁজে বের করে যা, ‘ব্রেকিং আউট’ নামে পরিচিত। তারা এগুলো খুঁজে বের করতে সময় নেয় গড়ে মাত্র ১৮ মিনিট।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে উত্তর কোরিয়া, তবে রুশ হ্যাকারদের থেকে তারা অনেক পিছিয়ে, এক একটি ব্রেকআউট এ তাদের সময় লাগে গড়ে ২ ঘন্টা ২০ মিনিট, যা রুশ হ্যাকারদের তুলনায় প্রায় ৮ গুণ ধীরে।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে চীন, তবে তাদের পার্থক্যটাও বড়সড়, গড় প্রতি ব্রেকআউট সময় চারঘন্টা।

চতুর্থ স্থানে থাকা ইরানের রাষ্ট্র সমর্থিত হ্যাকারদের ব্রেকআউট সময় পাঁচ ঘন্টার বেশি, আর ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে সংগঠিত সাইবার অপরাধীরা।

রাষ্ট্রীয় নিয়োগপ্রাপ্ত হ্যাকিংগ্রুপগুলোর সঙ্গে অপরাধী হ্যাকিং গ্রুপগুলোর ব্রেকআউট সময়ের আকাশ-পাতাল ফারাক, সাইবার অপরাধীরা গড়ে প্রতি ব্রেকআউটের পেছনে প্রায় ১০ ঘন্টা সময় নেয়।

ক্রাউডস্ট্রাইকের মতে, ব্রেকআউট সময়ের পেছনে প্রধান কারণ হল ‘ওওডিএ লুপ’ নামক হ্যাকিং কৌশল, যা পর্যকেক্ষণ, দিকনির্দেশনা, সিদ্ধান্ত ও কাজ এই চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনীর কর্নেল ও সমরকৌশল বিশেষজ্ঞ সর্বপ্রথম এই কৌশল সমর অভিযানে প্রয়োগ করেন। বর্তমানে অফিস আদালত সহ সব স্থানেই সাইবার নিরাপত্তায় এই কৌশল ব্যাবহার করা হচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ২০১৮ সালে আটলান্টার সরকারি নেটওয়ার্ক হ্যাকিংয়ের শিকার হবার পর তা উদ্ধারসহ আরও বড় বড় হ্যাকিং সনাক্ত ও উদ্ধারে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে।