২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২



দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৮২ জন ডেঙ্গুরোগী। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. ইসমত আরার সই করা নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। বর্তমান দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরও প্রচণ্ড চাপ ফেলছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একদিনে প্রায় দুই হাজার মানুষের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রমাণ করে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক চিকিৎসাকেন্দ্রেই রোগীদের মেঝেতে বা বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা অবিরাম কাজ করে গেলেও রোগীর এই বিপুল চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ডেঙ্গু এখন আর কেবল শহরের গণ্ডিতে আবদ্ধ নেই, গ্রামগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই রোগটি। প্রান্তিক পর্যায়ের ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রয়োজনীয় ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট এবং স্যালাইনের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেশি। জ্বর শুরু হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়ায় অনেকেই জটিল অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে এবং রোগীর সুস্থ হওয়ার সময় দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

গত একদিনে ৯ জনের প্রাণহানি সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, জ্বর কমার পরপরই ডেঙ্গু রোগীরা সবচেয়ে বেশি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েন। অধিকাংশ মৃত্যু ঘটছে ঠিক এই সময়ে যথাযথ নজরদারি ও তরল ব্যবস্থাপনার অভাবে। রোগীরা যখন ডেঙ্গু শক সিনড্রোম বা হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে পৌঁছান, তখন চিকিৎসকদের হাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় থাকে না। ফলে মৃত্যুর হার কমানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।