চিকিৎসা বাণিজ্য বন্ধে হাইকোর্ট রুলের জবাব চান ৪ সপ্তাহের মধ্যে


চিকিৎসা বাণিজ্য বন্ধে হাইকোর্ট রুলের জবাব চান ৪ সপ্তাহের মধ্যে
হাইকোর্ট


সরকারি চিকিৎসকদের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে শুনানি শেষে, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।এসময় চিকিৎসার নামে মানুষের জীবন নিয়ে বাণিজ্য করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন আদালত।আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিএমডিসি এবং বিএমএকে উচ্চ আদালতের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি)আদালত আদেশ দেন, সমন্বিত চিকিৎসা নীতিমালা প্রণয়নে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিশন গঠনের। যে কমিটি সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসকদের প্র্যাকটিস, ফি-সহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নির্ধারণ করবে।যদিও বর্তমান আইন অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের অফিস শেষে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে,দুদকের রিপোর্টে দেখা গেছে,এই সুযোগের অপব্যবহার করে অনেক চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে অনুপস্থিত থেকে বেসরকারি হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছেন।দুদকের তথ্যমতে, দেশের ৬২ শতাংশ চিকিৎসক এই আইনের অপব্যবহার করছেন। রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরও মানুষের জীবন নিয়ে বাণিজ্য হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার পরও সাধারণ মানুষ কোনো ওষুধ পাচ্ছেন না। এজন্য আদালত বলেছেন, এ বিষয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি হওয়া উচিত যাতে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে কেউ ব্যবসা করতে না পারেন।এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্র্যাকটিসের একটি বিধান ছিল। এই বিধানটি কেন সংবিধানের আর্টিকেল ৩২ এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, অসাংবিধানিক হবে না, এজন্য মহামান্য হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে একটি স্বাধীন মেডিকেল কমিশন গঠনেরও নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।এদিকে উচ্চ আদলতের আদেশকে স্বাগত জানিয়ে চিকিৎসকরা বলেছেন, এই আইন বাস্তবায়ন করা গেলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আর কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকলে চিকিৎসকদের ছাড় দেয়া হবে না হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের সুরক্ষায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত পাশ করা হবে।ডাক্তার সংকট নিয়ে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, সংকট মেটাতে চলতি বছরের মধ্যেই সারাদেশে ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হবে।