গম্ভীর তাহলে সঠিকই ছিলেন!



আইপিএল শুরুর আগেই ভিরাট কোহলির সমালোচনায় মজেছিলেন গৌতম গম্ভীর। ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই ওপেনারের মতে ক্যাপ্টেন হিসেবে বিচক্ষণ নন কোহলি। কেবল ভাগ্য গুণেই অধিনায়ক হতে পারছেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান।

এ প্রসঙ্গে গম্ভীর বলেছিলেন, ‘তাকে (কোহলি) বিচক্ষণ অধিনায়ক বলে মনে হয় না। তেমন কুশলী অধিনায়ক ও নয়। আর আইপিএলও জেতেনি। অধিনায়ক কত ভালো, রেকর্ড তা বলে দেয়।’

জবাবটাও কোহলি দিয়েছিলেন সমানে সমানে। কোহলি বলেছিলেন, ‘আমার যা করা উচিত তাই করছি। আইপিএল দিয়ে বিচার করলে কিছু করার নেই। সব সময় জয়ের চেষ্টা করি। মানুষ এসব নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে। তবে বাইরের কথা শুনলে পাঁচ ম্যাচও টিকতে পারতাম না। ঘরে বসে থাকতাম।’

তবে কথার জবাব আর মাঠের জবাব এক যে নয়, বুঝেছেন কোহলি। একবারও শিরোপা জিততে না পারা কোহলি চেয়েছিলেন এবার জয় করতে অধরা সেই শিরোপা। কিন্তু পারলেন কই? টানা হারে ক্লান্ত বিধ্বস্ত রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু যে টেবিলের তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

আইপিএলে এ পর্যন্ত ছয় ম্যাচ খেলে একটিতেও জিততে পারেনি ভিরাট কোহলির দল। টানা হেরেই চলেছে, এ পরাজয়ে যেন বিরাম নেই। চেন্নাই সুপার কিংস দিয়ে শুরু। এরপর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, রাজস্থান রয়েলস, কলকাতা নাইট রাইডার্সের পর আজ দিল্লি ক্যাপিটালিসের কাছে হেরে হারের বৃত্ত পূরণ করছে আরসিবি।

কখনো তাদের বিরুদ্ধে রান উঠেছে ২৩২। কখনো কখনো ২০৫ করেও ম্যাচ হারতে হয়েছে কোহলিদের। ভিরাট কোহলি, এবিডি ভিলিয়ার্সদের মত তারকা ক্রিকেটার থাকার পরও বারবার খেই হারিয়ে ফেলা আরসিবি বারবার গৌতম গম্ভীরকেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

আর তাতেই যেন বোধ হচ্ছে, সঠিক ছিলেন গৌতম গম্ভীর। পরাজয়ের বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া দলকে জয়ের রাস্তায় আনতে না পারলে অধিনায়ক হিসেবে যে অযোগ্যতার প্রমাণই পাওয়া যায়। সে কারণেই অধিনায়ক হিসেবে ভিরাট কোহলিকে এখনো শিশু মনে করেন গম্ভীর।

আন্দ্রে রাসেলের ক্যারিবীয় ঝড়ে উড়ে গিয়েছিল আরসিবি। সেই ম্যাচের পর ভারতের ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ পত্রিকায় নিজের কলামে গম্ভীর লেখেন, ‘ব্যাটসম্যান কোহলি একজন নিখাদ ওস্তাদ, কিন্তু অধিনায়ক কোহলি শিক্ষানবিশ পর্যায়ের। তাকে প্রচুর শিখতে হবে। বোলারদের ওপর দোষ না চাপিয়ে সব দায় তার নিজের কাঁধে নেওয়া উচিত। একটা উদাহরণ দেওয়া যায়। সিরাজের ওভারটি শেষ করতে স্টয়নিসের বদলে তার উচিত ছিল বাঁ হাতি স্পিনার পবন নেগিকে দিয়ে করানো। কারণ, উইকেটে বল বাঁক নিচ্ছিল। রাসেল বলে গতি পছন্দ করে, এটা বোঝা খুব সহজ ব্যাপার।’

ভারতের অধিনায়ক হিসেবে বেশ আগ্রাসী কোহলি। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, দলে মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো ‘মাস্টার মাইন্ড’ থাকার কারণেই কোহলির কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে। সে যা–ই হোক, আইপিএলে আরসিবি অধিনায়ক হিসেবে কোহলির অবদান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন গম্ভীর।

সাত-আট বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়েও কোহলি তাঁর দলকে শিরোপা জেতাতে পারেননি। গম্ভীর বলেছেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে তার ধন্যবাদ জানানো উচিত, কারণ এখনো তার ওপর ভরসা করে আছে। কারণ, কোনো টুর্নামেন্ট না জিতেও এত সময় থাকার সুযোগ খুব বেশি অধিনায়কের হয় না।’

একের পর এক পরাজয়ে তার কথারই যেন প্রতিফলন দিয়ে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ভিরাট কোহলি। আইপিএল দুঃস্বপ্নে ঘুরপাক খাওয়া কোহলি কি মাঠে জবাব দিতে পারবে এবার?