হার না মেনেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ


paperslife

খেলা শুরু হয়েছে কেবল। কিছু বুঝে উঠার আগেই গোল। ম্যাচের বয়স ২৯ সেকেন্ড পেরোতে না পেরোতেই কিরগিজস্তানের জালে বল। বাংলার মেয়েরা এগিয়ে ১-০ তে।

বাংলাদেশের ফুটবলে দর্শক খরা, এমন মিথকে ভুল প্রমাণ করেই আজ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার দশেক দর্শক। একটি জয়ের প্রত্যাশায় ভিড় করা হাজার হাজার দর্শকদের নিরাশ করেনি কৃষ্ণা, সানজীদা, মারিয়ারা।

কিরগিজস্তানকে ২-১ গোলে হারিয়ে অপরাজিতভাবে গ্রূপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা।

স্কোরলাইন যে মাঝে মাঝেই বেইমানি করে। এই ২-১ ব্যবধানে জয় বোঝাতে পারছে না কতটা ভয়ংকর ছিল বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচেই একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে খেলেছে মেয়েরা। স্কোরকার্ডে বাংলাদেশের নামের পাশে যদি ৫-৬ গোলেও থাকত, অবাক হওয়ার কিছুই ছিল না।

আক্রমণ ও প্রতিপক্ষের ওপর প্রেসিংটা চালিয়ে গেছে পুরোটা সময়। সেই সাথে অসংখ্য গোল মিসের মহড়া দেখিয়ে হতাশ করেছে দর্শকদের। না হলে স্কোরলাইন হতে পারত অন্যরকম। গোল মিস, অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলা, ব্যক্তিগত ঝলক দেখাতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলা ছিল বাংলাদেশের খেলার বড় অংশ জুড়ে।

৩-৪-৩ ফরমেশনে শুরু করা বাংলাদেশকে দেখে বেশির ভাগ সময় মনে হচ্ছিল তারা ২-২-৬ ফরমেশনে খেলছে। কেননা আক্রমণের পর আক্রমণ করে প্রতিপক্ষের সীমানায়ই বেশি সময় পার করেছে মেয়েরা।

কিক-অফ থেকে বাম প্রান্তে বলটা ফেলেছিলেন সেন্টারব্যাক আঁখি খাতুন। কিরগিজ রাইটব্যাক কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন। দ্রুত থ্রো-ইন করে কৃষ্ণার পায়ে বল দেন শামসুন্নাহার। সেখান থেকে কৃষ্ণার নেওয়া ক্রস কিরগিজ গোলরক্ষক গালকিনা ইরিনার হাত ফসকে বের হয়ে যায়। ফলোআপ থেকে এসে টোকা দিয়ে গোল করেন সানজীদা। ২৯ সেকেন্ডেই ১-০ এর লিড বাংলাদেশের।

এর পরের গল্পটা কেবল আফসোসেরই। ৩৭ মিনিটে বদলি মার্জিয়ার শট ক্রসবারে লাগলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে। ৪৪ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে মার্জিয়ার ক্রস গোলমুখে ফাঁকায় পেয়েও গোল করতে পারেননি সানজীদা।

বিরতিতে যাওয়ার আগে মারিয়া মান্দার থ্রু থেকে বক্সের মধ্যে বল ধরে মার্জিয়া কিরগিজস্তানের দুই সেন্টারব্যাককে ইনসাইড -আউটসাইড ডজে বোকা বানিয়েও গোলপোস্টে রাখতে ব্যর্থ হন।

এরই মাঝে ৫৯ মিনিটে গোল করে বাংলাদেশকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন কৃষ্ণা। রাইট উইঙ্গার সানজীদা ডান প্রান্ত দিয়ে তেড়েফুঁড়ে ঢুকে ক্রস করলে কিরগিজ গোলরক্ষকের হাত ফসকে বের হয়ে যায়। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণা দেখেশুনে জালে জড়াতে কোনো ভুলই করেননি এবার।

৪ মিনিট পরেই অনায়াসে ৩-০ করতে পারত কৃষ্ণাই। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।

৬৮ মিনিটে গোলরক্ষক রুপনার ভুলে ব্যবধান কমায় কিরগিজস্তান। এরপর একের পর সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। কখনো ফাইনাল থার্ড খেই হারিয়ে ফেলা, কখনোবা হিরো হবার লোভ সামলাতে না পেরে একক প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হওয়া ছিল হরহামেশা ঘটনা।

এই জয়ে বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবলের সেমিতে উঠেছে বাংলাদেশ। তবে আক্ষেপ থেকে যাচ্ছে স্কোর বড় করতে না পারা। সেই একই ভুল ছিল আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও।