চাঁদকে নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই। চাঁদের বয়স হচ্ছে। বলিরেখা বাড়ছে, সেই সাথে কম্পনও। সম্প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক পত্রিকা নেচার জিওসায়েন্স চাঁদের ১২০০০ নতুন ছবি এবং অ্যাপোলো মহাকাশযানের সিসমোমিটারের তথ্য প্রকাশ করেছে।
ছবি পাঠিয়েছে নাসার লুনার রেকন্সাঁ অর্বিটার। পাঠানো ওই ছবিগুলিতে দেখা যাচ্ছে চাঁদের পৃষ্ঠে বলিরেখা বাড়ছে। তার সঙ্গেই ক্রমাগত বেড়ে চলেছে চন্দ্রকম্প।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চাঁদে পৃথিবীর মতো টেকটনিক প্লেট নেই। এজন্য কয়েকশো মিলিয়ন বছর ধরে ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গেই কুঁচকে গিয়ে ছোট হয়ে যাচ্ছে চাঁদের পৃষ্ঠতল।
চাঁদের পৃষ্ঠ ভঙ্গুর হওয়াতে যেস্থানেই টান পড়েছে সেই স্থানই ভেঙে গেছে। এভাবেই ভাঙতে ভাঙতে আগের তুলনায় আকারে অনেকটাই ছোট হয়ে গেছে চাঁদ।
চাঁদের পৃষ্ঠ কুঁচকে বলিরেখা পড়ায় চাঁদের বুকে খাড়াই সিঁড়ির মতো ভাঁজ তৈরি হয়ে গেছে। ২০০৯ থেকে এপর্যন্ত অর্বিটার প্রায় ৩৫০০টি ছবি নিয়েছে চাঁদের অবতলের।
বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, চাঁদের পৃষ্ঠতল আগের থেকে প্রায় ৫০ গুণ বেশি বলিরেখাময়। আর যত পৃষ্ঠ কুঁচকে যাচ্ছে ততই বেড়ে যাচ্ছে কম্পন।
অ্যাপোলো ১১, ১২, ১৪, ১৫ এবং ১৬ মহাকাশযানের পাঠানো ছবিতে দেখা যাচ্ছে ১৯৬৯-১৯৭৭ পর্যন্ত চাঁদে ২৮ বার কম্পন হয়েছে। তার মধ্যে আটটি কম্পন হয়েছে খাড়াই ভাঁজগুলিতে।
গবেষকরা ধারণা করছেন, চাঁদে এখনও কম্পন হওয়ার কারণ এই প্রক্রিয়া আজও বর্তমান। কারণ নাসার অর্বিটারের পাঠানো ছবিতে যে ধস এবং পাথরের ভগ্নস্তুপের উজ্জ্বল ছবি দেখা যাচ্ছে তা পরিষ্কার ইঙ্গিত করছে সেগুলি সদ্য ঘটেছে।
বিকিরণ এবং ক্ষয়ের ফলে পুরনো ভাঙনগুলি অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। এই কম্পনের কয়েকটার মাত্রা রিখটার স্কেলে সাত পর্যন্ত ছুঁয়েছে।
বিজ্ঞানীরা আরও বলেছেন, চাঁদের কক্ষপথ যখন পৃথিবীর থেকে সব থেকে দূরে থাকে তখন জোয়ারভাটার জন্য পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণের চাপে চাঁদের পৃষ্ঠতলে আরও ভাঙন ধরে। আর এভাবেই ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে আমাদের চাঁদ।
চাঁদের পৃষ্ঠ ভঙ্গুর হওয়াতেই দিন দিন চাঁদ ছোট আকার ধারণ করছে।

