দেশে-বিদেশে সবখানেই সাংবাদিকতা পেশার সংঙ্গা হলো সুখ-দুঃখ বিসর্জন দিয়ে দায়িত্ব পালন করা। অসুস্থতা, আনন্দ বা প্রয়োজন সবকিছুর ঊর্ধ্বে হলো কাজ। সমাজে এই সম্প্রদায় তাই বেশ অসামাজিক।
কখনো ভেবে দেখেছেন কোন ঘটনা ঘটেছে শুনলে আপনি সর্বপ্রথম কি করেন? সত্যতা যাচাইয়ে টিভি বা অনলাইনে ঢুঁ মারেন। এরপর ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়েন। আর যাদের দিন-রাত এক করা খাটুনি আপনার জীবনকে সহজ করলো তাঁদেরকেই সাংবাদিক বলা হয়।
আজ ৮ জুন (শনিবার) হৃদরোগে আক্রান্ত মারা গেছেন সময় সংবাদের বার্তা সম্পাদক জাকারিয়া মুক্তা।

৫১ বছর বয়সী এই সাংবাদিক মৃত্যুর দিনটিতেও দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেননি। মুক্তার শ্যালক সালেহ মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানিয়েছেন, বিকেল ৪টায় অফিস থেকে ফিরে খেয়ে উনি ঘুমিয়ে পড়েন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে অসুস্থ বোধ করেন। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে আগারগাঁওয়ের নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তার গ্রামের বাড়ী নিলফামারী সদরের মাস্টারপাড়ায়। সময় টেলিভিশনের সামনে জানাজার পর রাতেই তার মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করা হয়েছে।
নিঃসন্তান জাকারিয়া মুক্তা দিনাজপুরের দৈনিক উত্তরা পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। এরপর তিনি সাপ্তাহিক অর্থনীতি, দৈনিক দিনের শেষে, খোলা কাগজ, আজকালের খবরে কাজ করেন। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি সময় টেলিভিশনে বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার ও সহকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর এক সহকর্মী লিখেছেন,

‘ঈদের ছুটির আগে শবে কদরের ছুটি ছিলো, সাথে আপনার (জাকারিয়া মুক্তা) ডে অফ। আপনাকে বললাম, ভাইয়া আপনি ছুটি নেন, দুই দিন রেস্ট নেন। কিন্তু এরকম রেস্ট নিতে তো বলিনি। ছুটি শেষে অফিসের ঐ চেয়ারে আপনাকে আর দেখবো না ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। ওপারে ভালো থাকবেন মুক্তা ভাই।

