অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বের শেষ ম্যাচ হওয়ায় আগের দুই ম্যাচের চেয়ে স্বাভাবিকভাবেই দর্শক উপস্থিতি ছিলো তুলনামূলক অনেক বেশি। যেহেতু আগে ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ, তাই মাশরাফি বোলিং করবেন ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে। এর আগে মাঠে উপস্থিত দর্শকদের চাঙা রাখার দায়িত্বটা নিলেন দুই ওপেনার লিটন দাস এবং তামিম ইকবাল।
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে একটি করে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন লিটন ও তামিম। প্রথম ম্যাচে লিটন খেলেন ১২৬ রানের অপরাজিত ইনিংস, পরেরটায় তামিমের ব্যাট থেকে আসে রেকর্ডগড়া ১৫৮ রানের মারকুটে ইনিংস। কিন্তু দুজনের যুগলবন্দী হচ্ছিল না সেভাবে। আজ (শুক্রবার) বিশেষ ম্যাচেই দুই ওপেনার একসঙ্গে মিলে দলকে এনে দিলেন উড়ন্ত সূচনা, গড়লেন রেকর্ড জুটি।
বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ ইনিংসের ৩৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বন্ধ হয়ে গেছে খেলা। তার আগেই অবশ্য দেশের ইতিহাসের উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন তামিম ও লিটন। ভেঙে দিয়েছেন ২১ বছরের পুরনো এক রেকর্ড। খেলা থামার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৩.২ ওভারে বিনা উইকেটে ১৮২ রান। যা দেশের ওয়ানডে ইতিহাসে উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড।
বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত তামিম ইকবালের সংগ্রহ ৮৪ বলে চারটি ৬ এবং তিনটি ৪ হাকিয়ে ৭৯ রান। এবং ক্যারিয়ারে ওয়ানডে ক্রিকেটে তৃতীয় সেঞ্চুরি পাওয়া লিটনের সংগ্রহ ১১৬ বলে ১৩ টি চার হাকিয়ে ১০২ রান।
১৯৯৯ সালের মার্চে মেরিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ১৭০ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ এবং মেহরাব হোসেন অপি। সে ম্যাচেই বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি। আজ প্রায় ২১ বছর পর আরেক মার্চে এসে, একই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সে জুটির রেকর্ড ভেঙে দিলেন তামিম ও লিটন।
ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে পঞ্চমবারের মতো ১৫০+ রানের উদ্বোধনী জুটির নজির এটির। যার মধ্যে তিনটিতেই ইনিংসের সূচনা করেছেন তামিম। এবারই প্রথমবারের মতো দেড়শ রানের উদ্বোধনী জুটির সাক্ষী হলেন লিটন। তবে এর আগে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ১৮৯ রানের জুটি গড়েছিলেন লিটন।

