আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে দিবসটি।
সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করা হবে। প্রথমে নারী শ্রমিকদের মজুরি ও অধিকার আদায়ের ইস্যুতে গড়ে উঠলেও বর্তমানে সারা বিশ্বের নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার ধ্বনিতে মুখরিত দিবসটি।
এবছর নারী দিবসের থিম হলো- ‘ইচ ফর ইক্যুয়াল’ অর্থাৎ সবার জন্য সমতা। এবারের থিম সবাইকে মনে করিয়ে দেয়, লিঙ্গসমতা বিশ্ব তৈরিতে সহায়তা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। ইউএন উইমেন ২০২০ থিমে বলা হয়- আমি প্রজন্মের সাম্যতা: নারীদের অধিকার আদায় করছি। ‘জেনারেশন ইক্যুয়ালিটি’ সমতা অনুসরণে ইউএন উইমেনের নতুন বহুমাত্রিক প্রচারণা।
১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুচ কারখানার নারী শ্রমিকরা দৈনিক শ্রম ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে আট ঘণ্টায় আনা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। আন্দোলন করার অপরাধে সে সময় গ্রেফতার হন বহু নারী। কারাগারে নির্যাতিত হন অনেকেই।
‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’ ১৯০৮ সালে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের কারখানার প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক একই দাবিতে আন্দোলন করেন। অবশেষে আদায় করে নেন দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার অধিকার।
১৯১০ সালের এই দিনে ডেনমাকের্র কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে জার্মানির নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই সারাবিশ্বে দিবসটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারীবর্ষে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করে। আর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। নারী দিবস হচ্ছে সেই দিন, যেই দিন জাতিগত, গোষ্ঠীগত, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে বৈষম্য-হীনভাবে নারীর অর্জনকে মর্যাদা দেয়ার দিন।
এদিনে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকে স্বরণ করে এবং ভবিষ্যতের পথ পরিক্রমা নির্ধারণ করে, যাতে আগামী দিনগুলো নারীর জন্য আরও গৌরবময় হয়ে ওঠে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও টকশোর আয়োজনসহ বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে দিবসটি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এদিকে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদের (সিডও) গুরুত্বপূর্ণ ২ ও ১৬.১ (গ) ধারা এখনও কার্যকর করেনি বাংলাদেশ। এ দুটি ধারা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
নারী নেত্রীরা বলছেন, সংরক্ষণ করে রাখা এ দুটি ধারা তুলে না নিলে সমতা নিশ্চিত হবে না। সিডও সনদের ২ নম্বর ধারায় রয়েছে, নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নিরসনে শরিক দেশগুলো আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে এবং আইনের সংস্কার করবে। অন্যদিকে, ১৬.১ (গ) ধারায় বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সিডও কমিটিকে দেওয়া অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমাজ এখনও প্রস্তুত নয়। এটি অসম্মানজনক।

