চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট-এর পার্থক্য কেন জানা জরুরি। এই বিষয়ে আলোকপাত করার আগে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই;
ভুল চিকিৎসায় (বলতে পারি অনাকাঙ্খিতভাবে) রোগীর মৃত্যু হলে দায় কার?
নানা কারণে পদে পদে ডাক্তাররা অপদস্থ হচ্ছেন কেন?
দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার এই করুণ দশার কারণ কি?
আমার মতো আপনার মনেও হয়তো আরও প্রশ্ন জাগছে। তবে আপাতত এই তিনটির উত্তর খুঁজে, চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টদের পার্থক্য বের হোম কোয়ারেন্টিনে মনোনিবেশ করতে চাই। চলুন এই প্রশ্নের উত্তরে একটু ভিনদেশে কল্পনায় ঘুরে আসি। যে দেশে এই প্রশ্নগুলোর সমাধান হয়ে গেছে…
বিশ্বে কিভাবে হাসপাতালগুলো চলছে?
আরও সহজে ভাবতে আপনি একটু বাংলাদেশের প্রাইভেট কয়েকটি হাসপাতাল এর দিকে তাকান। দেখবেন; সেখানে সবার কাজ ভিন্ন ভিন্ন। চিকিৎসক শুধু চিকিৎসা দিচ্ছেন। নার্স দিচ্ছেন সেবা। ফার্মাসিস্ট ওষুধের ডোজ নির্ধারণ করছেন।
এটা হসপিটাল ফার্মেসি ম্যানেজমেন্টে সাবজেক্টের থিয়োরী। আপনারা চিকিৎসকরা চাইলেই সকল ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন করতে পারেন। আর কত পুরাতন সিস্টমকে অনুসরণ করবেন।
প্রিয় চিকিৎসক; আপনি সব কাজ একা করেন। আপনার মন সবসময় ভালো থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারপরও আপনি চিকিৎসা দিচ্ছেন। হাসি ফুটাচ্ছেন রোগীদের মুখে। ওষুধ দেয়ার কাজটা আপনার। এখন আপনি চিন্তা করুন সবগুলো কাজ কি একা সম্ভব?
হয়তো এরই ফলাফল দেখা যায় মাঝে মধ্যে; ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু।
দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার এই করুণ দশার কারণ কি?
এই তো সেদিনের কথা। বিশ্বে যখন করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্বিগ্ন। তখন দেশের একজন চিকিৎসক বলেছিলেন এই দেশেও ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটবে। আমি এখন ভাবছি কতখানি মেধাবী ও অভিজ্ঞতা থাকলে এভাবে বলতে পারেন। অথচ আজ সেই চিকিৎসক স্বাস্থ্যমন্ত্রী পিপিপি (সঠিক- পিপিই) দিয়ে চিকিৎসকদের সুরক্ষা দিতে চান।
‘স্লিপ অব টাঙ’ নামের ঢালটা টেনে নিয়ে আসাই যায়। কিন্তু বিষয়টা পিপিই-তে সীমাবদ্ধ না। দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার অবস্থা দেখেই প্রত্যক্ষ করা নৌকার হাল কার হাতে!
দেশের ৯৯.৯৯% মানুষ জানে আজকের এই পরিস্থিতির জন্য কারা প্রকৃতপক্ষে দায়ী। তিন মাসে একটা পূর্ণাঙ্গ করোনা হাসপাতাল তৈরি করতে না পারা কি চিকিৎসকদের ব্যর্থতা?
আপনি কখনো ভেবেছেন আপনার রোগীর জন্য যে ঔষধটি আপনার হাতে পাচ্ছেন, তা কে তৈরি করছে? আমি গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টের কথা বলছি।
আপনার সরকারি চাকরি আছে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টের কিন্তু নেই। আপনার পেশার পরিচিতি সবাই জানে। ফার্মাসিস্টের কথা কে জানে? আপনি তো কাজ করেন নিজের এবং পরিবারের সেইফটির জন্য। সরকার আপনাকে সব করে দিবে। ফার্মাসিস্টরা কি পাবে বলতে পারেন?
সবাই গার্মেন্টস গার্মেন্টস করছি, তাদের মঙ্গল হোক; আমিও চাই। কিন্তু ফার্মাসিউটিক্যালগুলোর ফ্যাক্টরি এখনো খোলা। জানি কেউ?
তাদের ভবিষৎ কি যারা দেশের চাহিদা মিটিয়ে ১৪১টি দেশে ওষুধ রপ্তানী করছে। তাদের সুরক্ষা কথা কেউ ভাবে?
আপনারা হয়তো ভেবেছিলেন একজন ফার্মাসিস্ট আসলে আপনার জায়গাটি নিয়ে নিবে। তাই সবসময় চিকিৎসকের দোহাই দিয়ে ডিজিডিএর মহাপরিচালক হসপিটাল ফার্মাসিস্ট স্থগিত করে রাখলেন।
যাই হোক, এক কথায় যদি বলি চিকিৎসক হলো রোগ বিজ্ঞানী। ফার্মাসিস্ট হলো ওষুধ বিজ্ঞানী।
লেখক : সাদেক আহম্মেদ সৈকত
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরাম

