নিজের নামের সাথে জড়িত থাকা এগ্রো ফার্মের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিয়ে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হ্যেছেতা নিজের নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন সাকিব আল হাসান। নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন বিশ্ব সেরা এই অলরাউন্ডার।
ইংরেজিতে লেখা সে পোস্ট পাঠকদের সুবিধার জন্য অনুবাদ করে পুরোটা তুলে ধরা হলো :
দেরিতে সাড়া দেবার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি, কিন্তু আমি সমস্ত তথ্য আর চিন্তাভাবনা গুলো একটু গুছিয়ে নিতে চাচ্ছিলাম যেন আপনাদের সবার কাছে সত্যটা তুলে ধরতে পারি। যদিও আমার নামটা ওই এগ্রো ফার্মের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত, কিন্তু ব্যস্ত সূচির কারনে এই কোম্পানিটাও আমার অন্যান্য কোম্পানির মতোই আমার সহযোগী সদস্যগণ চালান। আমি এগুলোর নিয়মিত খোঁজ রাখার বা ঘুরে দেখার সুযোগ খুব কমই পাই।
আপনারা জানেন যে বছরের একটা বড় সময় আমি দেশের বাইরে থাকি, আমাদের দ্বিতীয় সন্তান আসছে এবং এই পুরো সময়টায় আমি এগ্রো ফার্মের ব্যবসার ব্যাপারে কিছুই জানতাম না, মিডিয়ার মাধ্যমে শ্রমিকদের বিষয়টা আমি জেনেছি। আমার ব্যবসায়িক অংশীদাররা আমাকে জানায় নি যে শেষ কয়েক মাসে আসলে কি হয়েছে। কিন্তু তারা কিছু শ্রমিককে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বেতন দিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো,যদিও সব শ্রমিকের কাজই জানুয়ারীতেই শেষ হয়ে গেছে।
৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এলো, বিক্ষোভ করলো। সম্ভবত নিচু মন মানসিকতার কিছু মানুষের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য। যাহোক, বিষয়টা জানার সাথে সাথেই তার গুরুত্ব অনুধাবন করে আমি পুরো বিষয়টা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি। তাদের বেতন আমার নিজের আয় থেকে পরিশোধ করে দেব, কোন কোম্পানি প্রদত্ত অর্থ বা আমার অংশীদারদের থেকে নিয়ে নয়।
আসলে আমি মনে করি এটা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ একটা বিষয় যা অভ্যন্তরীণ থাকাই উচিত ছিলো। আমি খুবই শকড হয়েছি তাদেরকে মাস শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে না দেখে, যেহেতু তারা নিজেরাই এই বিষয়ে রাজি হয়েছিলো। আরো অনেকের মতোই আমিও অসহায় মানুষের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছি, তাই অবাক হচ্ছি যে মানুষ এটা কিভাবে ভাবলো যে এত বিপুল সংখ্যক শ্রমিককে আমি বঞ্চিত করব যাদেরকে গত ৩ বছর ধরে নিয়মিত বেতন দিয়ে আসা হচ্ছে।
দূর্ভাগ্যজনক ভাবে আমি বুঝতে পারছি যে এটা মিডিয়ার কোন একটা অংশের কাজ যারা ব্যাপারটা খুব ভালোভাবে ঘেটে দেখেনি। ভালো হতো যদি তারা সত্যটা খুঁজে দেখতো,চটকদার হেডলাইন বানানোর দিকে মনযোগ না দিয়ে, যেটার কিছু অংশ মিথ্যা এবং পুরোই ভিত্তিহীন।
আমি মনে করি মিডিয়ার একটা শক্তিশালী ভূমিকা আছে সত্য যাচাই করার এবং সঠিক তথ্যের উপর প্রতিবেদন তৈরি করার, তা না হলে হয়তো তারা আরো অনেককেই আমার মতো আঘাত করবে কোন কারন ছাড়া। তারা পুরো বিষয়টায় ভালোভাবে নজর দিয়ে বাকি অংশীদারদের নামেও দায় আনতে পারতো আমার বদলে, শুধু আমার নামটাই তুলে ধরার বদলে। আমি আশা করি, মিডিয়া এবং সাংবাদিকরা রিপোর্ট করার বেলায় আরো যত্নবান হবেন।
জাতি হিসেবে আমি মনে করি আমাদের আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে মনযোগ দেয়ার এবং আমাদের উচিত মিথ্যা,ভিত্তিহীন তথ্যের ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং কঠোর হওয়া। আমার মনে হয় আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে আমাদের এখন নজর দেয়া উচিত।
সবাই প্লিজ নিরাপদে থাকুন,ভালো থাকুন।

