‘Bowled him. Full and straight. The bangladesh Tigers have knocked the England Lions out of the world cup.’
ইংল্যান্ডের ধারাভাষ্যকার নাসির হুসাইনের কণ্ঠ আর উপরের লাইনগুলো ভোলা সম্ভব নয়। রুবেল হোসেনের এডিলেডে ইতিহাস গড়া ম্যাচের ঠিক কিছু সময় আগে সবকিছু শেষ করে দিতে বসেছিলেন তামিম ইকবাল।
দুর্দান্ত খেলা ক্রিস ওকসের ক্যাচ যে ছেড়েছেন। ভাগ্য বিধাতা মুখ ফিরিয়ে নেয়নি, জয় পরাজয়ের দোলাচলে দুলতে থাকা সময়ে ক্যাচ মিস করেছিলেন; কিন্তু বাংলাদেশ জিতে যাওয়াতে এই যাত্রায় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো থেকে বেঁচে যান বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক।
লকডাউনের কারণে শুক্রবার সামাজিক যোগোযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে আড্ডা দেন তামিম। সেখানে তার সঙ্গী থাকেন জাতীয় দলের সতীর্থরা। গতকাল শুক্রবার রাতে তার সঙ্গে ছিলেন তাসকিন আহমেদ ও রুবেল হোসেন। অতিথি হিসেবে যোগ দেন নাসির হোসেন।
স্বভাবতই কথা উঠে ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপে; ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ম্যাচ নিয়ে। নাসির হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, ‘আমি ওই মুহূর্তে ৩২ কোটি গালি খেয়েছি। কারণ বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ একটা করে তো দেয় নাই, দুটা করে গালি দিয়েছে। রুবেল মাশআল্লাহ যে বোলিং করলো দুটা উইকেট নিয়ে নিলো। ওই ম্যাচের হাইলাইটস দেখলে দেখবি যে সবাই রুবেলের পেছনে দৌঁড়ায়। কারণ ম্যাচ জিতে গেছি। আমি রুবেলের পেছনে দৌঁড়েছি কারণ আমি বেঁচে গেছি। যদি ওই ম্যাচ হারতাম আমার আর বাংলাদেশে আসা লাগতো না। যেকোনো এক জায়গায় চলে যেতাম, তবে বাংলাদেশে আসতাম নারে ভাই। দেশে ফিরলে মানুষ আমাকে মেরেই ফেলতো।’
নাসির জানান, তামিম আগে তাকে নিয়ে মজা করতেন। বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলছে বাংলাদেশ। এক বলে দুই রান লাগে প্রতিপক্ষের। এমন সময় ক্যাচ উঠল আর নাসির ব্যর্থ হলেন ক্যাচ ধরতে, তখন কি করবেন। এমন ঘত্নাই তামিমের সাথে ঘটেছে সেই ২০১৫ বিশ্বকাপে।
ওই ম্যাচে ক্যাচ মিসের পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান তামিম। তিনি বলেন, ‘সবারই মনে আছে, ২০১৫ বিশ্বকাপে আমি ওকসের ক্যাচটা ছেড়েছিলাম। যখন খেলাটা ক্লোজ হয়ে গিয়েছিল। তাসকিনের বলে। ক্যাচটা ছাড়ার পর আমার কাছে মনে হচ্ছিলো মাটি ফাঁক হয়ে যাক আমি ভিতরে ঢুকে যাই আমাকে কেউ আর দেখার দরকার নাই।’
ওই ম্যাচে জয়ের নায়ক ছিলেন রুবেল। আর তামিমের মিস করা ক্যাচের বোলার ছিলেন তাসকিন। রুবেলের অনবদ্য বোলিংয়ে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতেছিল ১৫ রানে।

